আকাশবার্তা ডেস্ক :
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবছর সারাদেশে গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮ হাজার ৪৬৪ জন।
সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার (১৯জুলাই) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশ করেন। দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন। দুপুর দেড়টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে যেভাবে পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন : বেলা দেড়টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http://www.educationboard.gov.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের সফটকপি পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। বোর্ড থেকে ফলাফলের কপি সরবরাহ করা হবে না।
ভিন্ন উপায়ে পূর্ণাঙ্গ এইচএসসি’র ফল জানুন : প্রত্যেকবছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সকালে প্রকাশ করা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছতে সন্ধ্যা লেগে যায়। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দুপুরের দিকে ফল প্রকাশ করা হলেও সেখানেও বিপদ। সার্ভার আসে না।তবে এসব বিড়ম্বনাকে দূরে ঠেলে খুব সহজেই জনাতে পারেন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়ে ভিন্ন উপায়ে কিভাবে জানবেন কাঙ্ক্ষিত ফল। পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আরও একটি সরকারি ওয়েবসাইট eboardresults.com/app/stud. ওয়েবসাইটটিতে প্রথমে এক্সামিনেশন, ইয়ার, বোর্ড সিলেক্ট করতে হবে। এরপর রেজাল্ট টাইপ অপশনে একক ফলাফল জানতে Individual Result এবং প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট জানতে Institutional Result সিলেক্ট করে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সর্বশেষে সিকিউরিটি কি দিয়ে জানতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত ফল।
মোবাইল ফোনে জানা যাবে যেভাবে : বরাবরের মতোই যে কোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর থেকে এসএসএম করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানা যাবে। আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির ফল জানাতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে জানিয়ে দেওয়া হবে ফল। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিমের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পাওয়া যাবে ফল। এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফল পুনঃনিরীক্ষা করতে হলে : মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনালে আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-PIN) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফল পুনঃনিরীক্ষা করার জন্য প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। আর যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’দিয়ে লিখতে হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যা গত বছরের তুলনায় এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন বেশি। পরীক্ষার্থীর এই সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ।এবার এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিক প্রশ্নের মধ্যে লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশ এবং পরে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হয়। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় আড়াই ঘণ্টা ছিল। পরীক্ষা শুরু হয় ২ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়।