সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা না নিয়ে সময় কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যেরকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীদের যেমন আরও বেশি মনোযোগী করা যাবে, পরীক্ষা নিয়ে ‘গুজব আর অপপ্রচারের’ হাত থেকেও মুক্তি মিলবে।

বৃহস্পতিবার (১৯জুলাই) গণভবনে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই পরামর্শ আসে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।এসময় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তার প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা বদনাম হত প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশে না। অনেক উন্নত দেশেও এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে কারণ ডিজিটাল হওয়াতে। ডিজিটালের যেমন সুফল আছে, মাঝেমাঝে কিছু কুফলও এসে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা প্রচার হয়ে যায়।”

এবার এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ না ওঠায় সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার প্রধান বলেন, “এবারে যে পদ্ধতিটা নেওয়া হয়েছে, সেটা খুবই চমৎকার। আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীরা চলে যাবে পরীক্ষার হলে। ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে, কয়েকটা সেটের প্রশ্নপত্র থাকে, কোন সেটটা দেওয়া হবে। তার ফলে নকল বন্ধ হয়েছে।”

তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা একটু পড়াশোনা করলেই যেখানে ভালো রেজাল্ট করতে পারে, সেখানে তারা নকল করবে কেন?এবার পরীক্ষা শেষ করার পর ৫৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারায় শিক্ষক এবং শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটা ছোট্ট অনুরোধ আমার থাকবে, সেটা হল পরীক্ষার সময়টা। পরীক্ষার একটা দীর্ঘ সময় দোসরা এপ্রিল পরীক্ষা শুরু, আর ২৪শে মে পর্যন্ত পরীক্ষা। এই অত দীর্ঘ সময়, বোধ হয় রেজাল্ট দিতেও আপনারা এত সময় নিলেন না পরীক্ষা নিতে যত সময় নিয়েছেন। সেখানে পরীক্ষার সময়টা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সময়ের পরীক্ষা পদ্ধতির কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি, তখন তো আমাদের দুই বেলা করে পরীক্ষা দিতে হত। সকালে এক পেপার, বিকালে এক পেপার। আমাদের তো দম ফেলার সময়ই থাকত না, সাত দিনে পরীক্ষা শেষ। ১০টা সাবজেক্ট, মাঝখানে দুই দিন ছুটি ধরে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত।”

আজকের বাস্তবতায় পরীক্ষার সময় কী করে কমানো যায়, তা খুঁজে দেখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাকে আরেকটু কমিয়ে আনার ব্যবস্থা যদি করতে পারেন, তাহলে কিন্তু আপনি দেখবেন, ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে, পরীক্ষাটাও তাড়াতাড়ি হবে, আর এখানে ওই যে নানা ধরনের কথা প্রচার টচার, অপপ্রচার, তার হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।” আর যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদেরকে মনোবল না হারাতে এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তাদের বলেন, “এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়লে কৃতকার্য হবে। নিজের ইচ্ছায় পড়তে হবে।” অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার পরামর্শ- “ছেলেমেয়েদের বকাঝকা করবেন না। কেন খারাপ করল, তা খুঁজে বের করুন।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “আমি একটা কথা বলব আমাদের ছেলে মেয়েদের, একটা সম্পদ- শিক্ষা, এই সম্পদটা কেউ কখনও কেড়ে নিতে পারবে না। ছিনতাইকারী কখনও নিতে পারবে না, চুরি ডাকাতি করেও নিতে পারবে না। শিক্ষা হচ্ছে সবচাইতে বড় সম্পদ। কাজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে তাহলে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যাবে “

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যাতে আগামীতেও এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। শিক্ষা ছাড়া একটা জাতি চলতে পারে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে যে সমস্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জায়গায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিয়েছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজেটেও এর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও উন্নত করে দিয়েছি। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সার্বিকভাবে শিক্ষাকে সবদিক থেকে উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930