নিজস্ব সংবাদদাতা :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া এলাকায় একাধিক চুন পোড়ানোর কারখানা পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব কারখানার কারণে ধোঁয়া, বর্জ্য ও পরিবেশদূষণের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কারখানাগুলোর একটি যে জমিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেই জমির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, জমিটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ বা অস্পষ্টতা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে সেখানে কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাঁরা কোনো লিখিত বা নথিভুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
সরেজমিনে দত্তপাড়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চুন পোড়ানোর সময় উৎপন্ন ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
এক বাসিন্দা বলেন, কারখানা চালুর সময় ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেকে নানা ধরনের চাপের আশঙ্কা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, জমির মালিকানা কী এবং কারখানা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কারখানাগুলোর বৈধতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, জমির মালিকানা এবং পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।