আকাশবার্তা ডেস্ক :
জনগণের নিরাপত্তা বিধানে সততা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনসার-ভিডিপি’র সদস্যদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মযাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ত হবার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় বিশেষ ভূমিকা আপনারা রাখবেন, সেটাই আমরা চাই। যেন আমাদের ছেলে-মেয়েরা মাদকাশক্তি এবং জঙ্গিবাদে না জড়ায় এ ব্যাপারে আপনাদের একটা ভূমিকা রাখতে হবে।’
রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফিপুর আনসার একাডেমীতে ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৭তম জাতীয় সমাবেশ-২০১৭’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস কেবল বাংলাদেশেই নয় সমগ্র বিশ্বব্যাপি একটি সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গ্রামগঞ্জে বসবাস করেন তাদের মধ্যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মত অপকর্মের সাথে যারা জড়িত অথবা মাদকাশক্তি, মাদক পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারেন আপনার। ছেলে-মেয়েরা মাদকাশক্তি এবং জঙ্গিবাদে যেন না জড়ায় এ ব্যাপারে আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন কী করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এটাই প্রত্যাশা। আপনারা আনসার ও ভিডিপিগণ সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
সফিপুর আনসার একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৭তম জাতীয় সমাবেশের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাহিনীর পরিচালক ফকরুল ইসলাম প্যারেড পরিচালনা করেন।
এরআগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং আনরার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান আনসার একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্র্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, খুলনা এবং রাঙ্গমাটিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর কমপ্লেক্স ভবনের নাম ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি আনসার সদস্যদের নিয়ে একটি কেক কাটেন এবং তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন।