আকাশবার্তা ডেস্ক :
চলতি বছরের ১১ এবং ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয়েছে। সভাপতি হয়েছেন রেজানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গোলাম রাব্বানী।
ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই কমিটি ঘোষণা করেন। তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি করা হয়েছে- সাদ্দাম হোসাইনকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে। ঢাকা মহানগর-উত্তরের সভাপতি হয়েছেন মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাইদুর রহমান হৃদয়কে। ঢাকা মহানগর-দক্ষিণের সভাপতি করা হয়েছে মেহেদী হাসানকে, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. জোবায়ের আহমেদ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে আগামী ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি অনুমোদন করেছেন।”
শোভন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নেত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব।’
জাতীয় নির্বাচনের বছরে ছাত্রলীগের কমিটি ভোটে নয়, বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবশ্য গত ১১ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রথমদিনে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি করার নির্দেশ দেন।
সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে না পেরে পরদিন একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি। এরপর ৪ জুলাই গণভবনে ডেকে নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।
সবশেষ ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সময়ের স্বল্পতায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বাছাই করতে গঠন করা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। সংক্ষিপ্ত তালিকা আসার পর তাদের বিষয়ে আরেক দফা খোঁজ খবর নিয়ে নেতৃত্ব বাছাই করা হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসর পর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আচরণ ও নানা ঘটনায় বারবার সমালোচনায় পড়তে হয়েছে। আর এবার জাতীয় সম্মেলনের আগে নতুন মডেলের ছাত্রলীগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
বিশেষ করে এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বহুল আলোচিত অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের বংশের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডও যাচাই করা হয়েছে।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।