শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে দুর্ঘটনার ধরন বুঝে পেনাল কোডের ৩০১ ও ৩০২ ধারা প্রয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।
সোমবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
আইনের ধারা ৬ এ বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য বয়স হতে হবে ১৮ বছর। পেশাদার হলে বয়স হতে হবে ২১ বছর। এছাড়া লাইসেন্সধারী হতে চাইলে ন্যূনতম যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী বা সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে।
আইনের ১১ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে একজন চালকের লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট থাকবে। একেবার অপরাধ করলে একটি করে পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট শূন্য হলে তার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
১২ ধারায় বলা আছে, লাইসেন্সধারী কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে অক্ষম, অপ্রকৃতিস্থ, মদ্যপ হলে তার লাইসেন্স প্রত্যাহার-স্থগিত করা যাবে।
নতুন আইনে যানবাহনের চালক, হেলপারসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। এটি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনে নেই। শ্রম আইন ২০০৬ এর সঙ্গে মিল করে কর্মঘণ্টা সরকার ঠিক করবে।
আইনের নতুন ধারায় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা, সীমানা নির্ধারণ, মোটরযানের ইকোনোমিক লাইফ, গতিসীমা, শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিলের বিষয়টি আইনে যোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জাবালে নূর পরিবহণের বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হন। পরের দিন থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান করে বেপরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববারও অব্যাহত ছিলো শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইন বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের অনেক দাবিই পূরণ হয়ে যাবে।
১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ সংশোধন, পরিমার্জন ও সংশোধন করে একটি আইন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১৩ সালে। এরপর গত বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু পর্যবেক্ষণসহ আইনটি নীতিগত অনুমোদন পায়।
আইনে মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন আইনটি মতামতের জন্য পাঠালে তারা অপরাধ ও দণ্ডের বিধান পর্যালোচনা করে খসড়া আইনটি সংযোজন ও পরিমার্জনের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন হুবহু রেখে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।
খসড়া আইনে পরিবহণ খাতে বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়। কিন্তু পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা এ খসড়া আইনের বিরোধিতা শুরু করেন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ