বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

সড়কে নৈরাজ্য আর ভাড়া দু-ই বেড়েছে

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


সরকারের আশ্বাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। শৃঙ্খলাও ফেরেনি। এরই মধ্যে চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিশেষ অভিযান। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাস মালিকদের নিজস্ব চেক। এতে যানবাহনের সংখ্যা কমলেও নৈরাজ্য আগের থেকে বেড়েছে। এই সুযোগে আবারো ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ গণপরিবহণের ক্ষেত্রে অনেকটাই ছাড় দিচ্ছেন।
অনিয়মগুলোও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। তবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি আর কিছু কিছু স্টাফ গাড়ি বেশ ভালোভাবেই ধরা হচ্ছে। প্রাইভেট গাড়ির ক্ষেত্রে গ্লাস সামান্য ফাটা থাকলেও তা আইনের আওতায় আসছে। মোটরসাইকেল যা ধরছে তার বেশিরভাগই মামলার আওতায় আসছে। কিছু না হলেও ট্রাফিক রুলস ভায়োলেটের ধারায় মামলা ঠুকে দেয়া হচ্ছে। গতকাল থেকে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে গণপরিবহণের কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা তা চেক করছে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ও কমিটিগুলো।
তবে সড়কে যানবাহনচালক এবং পথচারীদের নিয়ম অমান্য আগের মতোই চলছে। এ টার্মিনালে চেকের দায়িত্বে রয়েছেন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও শ্রমিক কমিটির নেতা রাজু আহমেদ। তারা বলেন, আমরা সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছি। তারা যেসব গাড়ি চেক করেছেন তার অধিকাংশের কাগজপত্র ঠিক আছে। আর যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই সেগুলো টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে না। নগরীর টার্মিনালগুলোতে মালিকদের এ অভিযান ও ট্রাফিক সপ্তাহ চলার কারণে সড়কজুড়ে লক্কড়ঝক্কড় পরিবহণ চোখে পড়েনি। রাস্তায় গণপরিবহণও কম দেখা গেছে। যারা গাড়ি চালাচ্ছেন তাদের অনেককেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
গাড়ি চালানো অবস্থায় যা ব্যবহার করা নিষেধ। পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ এবং বিআরটিএর বিশেষ অভিযানের কারণে গতকাল সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা ছিল কম। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, বিমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। মূলত নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে পুলিশ নৈতিক ভিত্তি পেয়েছে। সব জায়গায় পুলিশ হাত দিতে পারছে। বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও বাসচালকরা সড়কের মাঝখানেই বাস থামিয়ে যাত্রী নামাচ্ছেন, ওঠাচ্ছেন। পেছনে অন্য বাস, গাড়ি অনবরত হর্ন দিয়ে যাচ্ছে। চলন্ত বাসেই যাত্রীরা লাফিয়ে উঠছেন। বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা সড়কের ওপরই দাঁড়াচ্ছে।
যাত্রীদের দাঁড়ানোর জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা বা স্টপেজ না থাকায় এনমটি হচ্ছে বলে মনে করেন যাত্রীরা।লাইসেন্স না থাকাসহ নানা কারণে রাজধানীতে গণপরিবহণের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এই সুযোগে আবারো ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। কোন কোন বাসও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিধ্যারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। অটোরিকশাচালকরা কদাচিৎ সরকার-নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীদের আনা-নেওয়া করেন। তবে রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো চালুর পর অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা কমেছিল। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ১০ বা ২০ টাকা দিতে হতো। কখনো-কখনো সেটা ৫০ টাকায় ঠেকত। কিন্তু শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে রাস্তায় গণপরিবহণ কমে যায়।
এরপর আবার পরিবহণশ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন। এসবের মধ্যেই গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। সাথে যুক্ত হয়েছে মালিকদের চেক। এসব কারণে রাজধানীতে গণপরিবহণ কম থাকায় যাত্রীরা যাতায়াতে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে কর্মজীবী নারীদের। যাত্রীদের এ অসহায়ত্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া হাঁকান। হাতেগোনা দু-একটি অটোরিকশা ছাড়া কোনো চালকই মিটারের চলতে রাজি নন। যাত্রীরা মিটারের কথা বললেই চালকরা যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। আবার দরদাম করে যে টাকায় চালক রাজি হন, তা মিটার অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়ায় যেতে হয়। আবার চালকরা মর্জিমাফিক রুট ছাড়া যেতে চান না। সরকার ২০১৫ সালে সর্বশেষ সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ও জমার পরিমাণ বাড়ায়। সে অনুযায়ী, অটোরিকশার দৈনিক জমা ৯শ টাকা। আর ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ৪০ টাকা, পরে প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা এবং বিরতিকালীন চার্জ প্রতি মিনিটে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১