বিশেষ প্রতিনিধি :
শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে আকস্মিক লক্ষ্মীপুরে বিদ্যালয় মাঠে আ.লীগ নেতা এমএ সাত্তারের হেলিকপ্টার অবতরণ করে। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও বিশৃংখলা তৈরী হয়েছে বলে দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাদের আগে থেকে জানা ছিলনা বলেও তারা জানান। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১২আগষ্ট) দুপুরে সদর উপজেলার মান্দারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এম এ সাত্তারের নির্বাচনী শোডাউন, মহড়া এবং হেলিকপ্টার অবতরণের বিকট শব্দে ক্লাস থেকে মাঠে ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের আগেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত করে আ.লীগ নেতা সাত্তারের এ ধরনের রাজনৈতিক ডিগবাজী এবং শোডাউনে অনেকেই ভালো চোখে দেখেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সূধীসমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
তাদের মতে সাত্তার ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান এম এ সাত্তার সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত হওয়ার আগেই নিয়ম ও আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি- কোন মন্ত্রী, এমপি বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সংবর্ধনায় স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি এম এ সাত্তার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এমনিতেই এম এ সাত্তারের বিরুদ্ধে কয়েকবছর আগে শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা না পরিশোধ না করাসহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার শাস্তির দাবিতে ঝুমুর সিনেমা হল এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন।
অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে সম্ভাব্য মনোনায়ন প্রত্যাশী। এছাড়া তিনি ঢাকা মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিকেল ইনষ্টিটিউটের চেয়ারম্যান হওয়ায় কোন কিছুরই তোয়াক্কা করেন না বলে এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক কর্মকর্তা জানান, জেলায় সরকারি/বেসরকারি যে কেউ হেলিকপ্টরে অবতরণ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হয়। কিন্তু এম এ সাত্তার হেলিকপ্টার অবতরণের বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেননি।
হেলিকপ্টার অবতরণের অনুমতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ এম এ সাত্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মহিবুল হক বলেন, ১১টার পরে দলীয় নেতাকর্মীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়। এরপর ১২টার দিকে একটি হেলিকপ্টারে সাত্তার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার অবতরণ করেন। তবে হেলিকপ্টর অবতরণের বিষয়ে আমাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু তালেব জানান, ক্লাস চলাকালীন সময় হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে তা সম্পূর্ণ বেআইনী।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বেসরকারিভাবে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। এক্ষেত্রে সাত্তার ট্রাস্ট থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। ক্লাস চলাকালে হঠাৎ হেলিকপ্টার অবতরণ করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (আরো বিস্তারিত আসছে পত্রিকায়)