আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, এখনো তা শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়া রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। নতুন রূপে, নতুন সাজে ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। এটা রুখতে পারে একমাত্র জনগণ। জনগণের ক্ষমতায়ন হলেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র জনগণই রুখে দিবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপিকে দিয়ে আন্দোলন হবে না। এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। বিভ্রান্ত করতে পারবে, গুজব ছড়াতে পারবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ইস্যু তৈরি করে আন্দোলনের কথা বলবে, জনগণকে বিভ্রান্ত করবে, গুজব রটাবে। এ জন্য আমাদের সজাগ-সচেতন থাকতে হবে। সজাগ থাকা নিয়ে নিজ সংগঠনের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি বলেন, দলের জন্য সজাগ ও সচেতন হলো আমরা যারা সংগঠন করি, আমাদের সংগঠন করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে, কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে, শুধু দিবস পালন করলে হবে না। যত বেশি কর্মসূচি প্রণয়ন করবে, তত বেশি সজাগ থাকবে। এর বাইরে সংগঠন শক্তিশালী হতে পারে না।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বিএনপি বিভ্রান্তকারী দল। রাজপথে ব্যর্থ হয়ে, অনলাইনে ও ফেসবুকে গুজব ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে এরা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। সরকার দাবি মেনে নেয়ার পর যখনই শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে গেলো, শুরু হলো গুজব। এরা বিভ্রান্ত করবেই, আমাদের কাজে জনমতের সৃষ্টি করেন।
অনলাইন, ফেসবুকে জনমত গঠনের কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর হাসির ঘটনা ইঙ্গিত করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা একটা হাসির জন্য যুদ্ধ করেছি। আবার একটা হাসিতে ভয়ঙ্কর, একটি হাসিতে ভূমিকম্প, একটি হাসিতে দৈত্য-দানব, একটি হাসি সুনামি, এটা বাস্তবতা, স্বীকার করতে হবে। এমন ঘটছে, কী কারণে ঘটছে, বের করতে হবে। একটা হাসির জন্য পদ্মা সেতুর অবস্থা কি হয়েছে দেখেছি। আবার আরেকটি হাসির জন্য অবস্থা কি হয়েছে- তাও দেখেছি। এটি শেখ হাসিনার সরকার, সাবধান। হাসেন, সাবধান। আমাদের চিন্তা করার কিছু নাই, শেখ হাসিনাই যথেষ্ট।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, মানব ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ ৭৫-এর ১৫ আগস্ট। হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে তার প্রিয় বাংলাদেশ কিংবা বাঙালি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি বরং দিনে দিনে বিশাল থেকে বিশালতর হয়ে তিনি বিশ্বমানবতার পথপ্রদর্শক হয়ে আছেন। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে।
তিনি বলেন, ঘাতকরা শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে চাইনি তারা বাংলাদেশকে হত্যা করতে চেয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধী সেই ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খান্ত হননি তারা চেয়েছিল- বাংলাদেশ যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে না পারে, তাই তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। এসব ঘাতকচক্র, স্বাধীনতা বিরোধীচক্রকে প্রতিহত করার জন্য যুবলীগের নেতাকর্মীদের সবসময় সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।