শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে নকল পণ্যে বাজার সয়লাব

নিজস্ব প্রতিবেদক :


লক্ষ্মীপুরের ছোট বড় প্রায় প্রত্যেকটি হাট বাজার নকল পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। নামি দামি কোম্পানির পণ্যের নামের সাথে অনেকটা মিল রেখে তৈরী করা হচ্ছে নকল মালামাল। উৎপাদনকৃত এসব পণ্যের গায়ে বিএসটিআই’র নকল সীলও ব্যবহার করা হচ্ছে। মিছ ব্র্যান্ডিং বা নকল এসব মালামালের গায়ে ব্যবহৃত নাম পড়ে না দেখলে অথবা ব্যবহার না করলে বোঝার উপায় নেই এটি নকল না আসল পণ্য। এতে প্রতারিত হচ্ছেন, ভোক্তা জনসাধারণ। এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ উদাসীন বলেই মনে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়- খাদ্যদ্রব্য, কসমেটিকস্ এবং নিত্য ব্যবহার্য্য প্রায় সকল পণ্যই নকল নামে উৎপাদন করে বাজারজাত করে আসছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইউনিলিভার কোম্পানির রিন ওয়াশিং পাউডারের নাম এবং মোড়কের সাথে হুবহু মিল রেখে জলি কেমিক্যাল কোম্পানি নামে একটি অখ্যাত প্রতিষ্ঠান রিম ওয়াশিং পাউডার নকল পণ্যটি বাজারজাত করে আসছে। পাশাপাশি বনফুল, বর্ণফুল, কর্নফুলী, সুরেশ, ট্যাং, পঁচা সাবান এসব কোম্পানির নামের পণ্যের সাথে মিল রেখে বাজারজাত করা হচ্ছে নকল পণ্য সামগ্রী।

লক্ষ্মীপুরের ছোট বড় প্রায় বাজারেই চেয়ে গেছে নকল পণ্য। অনুমোদনহীন অথচ ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে স্বার্থান্বেসী চক্রটি। অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের ব্র্যান্ডধারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেও নকল পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। আইন অনুযায়ী অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন করতে হলে কনট্রাক লাইসেন্স বা লিখিত চুক্তিনামা থাকতে হবে। আবার কোন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানকে তার পণ্য উৎপাদনের দায়িত্ব দিলে তা লিখিত আকারে বিএসটিআই’কে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের কোনো নীতিমালা অনুসরণ না করে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

দেশের নানা শ্রেণী-পেশার নারীরা অন্য সময়ের তুলনায় ঈদ উপলক্ষে প্রসাধনী বেশি কেনেন এবং ব্যবহার করেন। এই সময়কে বেশি কাজে লাগাচ্ছে নকল প্রসাধনী তৈরির কারিগররা। সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এসব নকল প্রসাধনী । কারও ধরার ক্ষমতা নেই এটি আদৌ আসল নাকি নকল।
বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ক্রিম, লিপস্টিক, আইলাইনার ও বডি স্প্রে, শ্যাম্পু পর্যন্ত নকল খুঁজে পাওয়া যায় বাজারে। দেশী পণ্য যেমন আছে তেমন আছে বিদেশী দামি ব্র্যান্ডের নকল পণ্যও। এগুলো সরাসরি রাজধানীসহ সারাদেশের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।
একটি প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ও’লের ক্রিমের গায়ে ইউনিলিভার কোম্পানির নাম লেখা। অথচ ইউনিলিভার ও’লে ব্র্যান্ডের ক্রিম কখনোই তৈরি করে না। আবার ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফেয়ারনেস ক্রিম হুবহু প্যাকেট ও কৌটা নকল করে বিক্রি করতে দেখা যায়। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসৎ একটি চক্র চীন থেকে অর্ডার দিয়ে নকল এই ক্রিম বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে। বিক্রি হতে দেখা যায় বিখ্যাত ‘সেনসোডাইন’ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টও। একটি আসল সেনসোডাইন টুথপেস্টের পাইকারি দাম ৪০০ টাকা। অথচ একই ব্র্যান্ডের নকল টুথপেস্ট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।

নকল তবুও দাম বেশি : বাজারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, নকলবাজির নানা চমকপ্রদ কাহিনী। প্রায় সব নকল পণ্য অনেক কম মূল্যে বিক্রি হলেও শুধু একটি ‘নকল জিনিস’ বিক্রি হয় বেশি দামে। তা হচ্ছে ওজন মাপার বাটখারা। অধিক মুনাফার লোভে একশ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী ওজনে কম দিতে দোকানে ব্যবহার করে নকল বাটখারা। আড়াই কেজি, এক কেজি, ৫০০, ২০০, ১০০ ও ৫০ গ্রামের এক সেট আসল বাটখারা কিনতে লাগে ৮০০ টাকা, কিন্তু একই নকল বাটখারা কিনতে হয় ১২০০-১৩০০ টাকায়।

এসব নকল বাটখারায় ওজন দিয়ে একশ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের ঠকিয়ে আসছে। বাজারে শাক-সবজির কেজি যেখানে ৪০ টাকার কমে মেলে না, সেখানে মহল্লায় মহল্লায় ভ্যানযোগে নিয়ে ঘরে ঘরে বিক্রি করা হয় ৩০ টাকা কেজিতে। গৃহকর্ত্রীরা ঘরে বসে কম দামে সবজি পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। কিন্তু বাটখারার ওজনের ফাঁকিবাজিতে তারা কত ঠকেছে তা ঠাহর করতে পারে না। বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়াই বহু ধরনের পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি সাধারণ মানুষ।

এএইচ/এবি

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮