বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির উত্তাপ সেপ্টেম্বরে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়ছে জনমনে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দাবি আদায়ে সেপ্টেম্বরে মাঠে নামবে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজনৈতিক মাঠে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উত্তাপ শুরু হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নির্বাচনের হাতেগোনা কয়েকমাস বাকি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা প্রতিনিয়ত আক্রোশমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। দুই দলের এসব বক্তব্যের রেশ সেপ্টেম্বর মাসে মাঠে গড়াবে। সরকারবিরোধী দলগুলো সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মাঠে নামবে।

আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা আঁটছে। একই সময়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে ছোট-বড় বাকি রাজনৈতিক জোটগুলোও। বিএনপির সূত্র মতে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার শর্ত মেনে নিলেই নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি। এসব শর্ত নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছে দলটির নেতারা। সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়েই নির্বাচন হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আন্দোলন ছাড়া দাবি আদায় হবে না। তাই সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এছাড়া নতুন করে বিএনপির ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে চাপে রাখতে মামলাটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নকশা কষছে আওয়ামী লীগ। গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ইস্যুতে যেকোনো সময় মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির। প্রথমদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশ ডাকা হবে। এসব কর্মসূচিতে বাধা এলে অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, সরকার গত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনও একতরফাভাবে করতে চায়। কিন্তু আগামীতে সরকারকে শূন্যমাঠে খেলতে দেয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় বিএনপি জনগণকে নিয়েই মাঠে নামবে। জনগণই অবৈধ সরকারকে মসনদ ছাড়া করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় না বসলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করতে হবে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে যাব, এজন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। একতরফা নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাবনায় একাদশ জাতীয় নির্বাচন।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের পূর্বে বর্তমান মন্ত্রিসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করবে। বিএনপির সরকারবিরোধী অপচেষ্টা এবং নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। দলটির নেতারা বলছেন বিএনপির দেয়া শর্ত অযৌক্তিক। সংবিধানের বাইরে কারো যাওয়ার সুযোগ নেই, আলোচনারও প্রয়োজন নেই। সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের নৈরাজ্য হলে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ।

বিএনপি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করলে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। তথ্য মতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বিজয় ঘরে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ সব সহযোগী সংগঠনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে টানা দুই মেয়াদে সরকারের করা উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক দলীয় প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে আনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেয়া হবে।

এছাড়া বিএনপির ভোটবানচালের অপচেষ্টা রোধে সারাদেশে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করার কাজ চলছে। ওই কমিটি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি সিনিয়র নেতাদের অবহিত করবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি সব সময় নৈরাজ্য করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে। এবারো যদি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে কোনো ধরনের নৈরাজ্যের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবে। এজন্য আওয়ামী লীগ সব সময় প্রস্তুত।

নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনেই একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। গণতন্ত্রের কথা বলে বিএনপি যদি ২০১৮ সালকে ২০১৪ সাল মনে করে, তাহলে তারা মারাত্মক ভুল করবে। এবার যদি সন্ত্রাস ও সহিংসতা হয়, তাহলে দেশের মানুষই তা প্রতিরোধ করবে।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১