আকাশবার্তা ডেস্ক :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গ্রেপ্তার নিয়ে বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা নিরাপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করছি না। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা আমরা করছি না। সন্দেহভাজন জঙ্গি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতেই এ অভিযান চলছে।’
শুক্রবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (০৬সেপ্টেম্বর) ঢাকা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে সারাদেশে বিএনপির ১৫ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক, নাম উল্লেখ করে আসামি সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮০ হাজার আসামি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যন্ত রয়েছে। কাজেই বিএনপি নেতাকর্মীরা কে কোথায় কি করছেন তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। বিএনপি গ্রেপ্তার নিয়ে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। এসবে কান দিয়ে জনগণের সময় নষ্ট করার দরকার নেই। পারলে প্রমাণ করেন যে বিএনপি নেতাকর্মীরা অপরাধী নয়।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এখানে সবাই মিলে মিশে থাকবে ও ধর্ম পালন করবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম তা অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না গেলে তার কিছুই হবে না। আদালতে সুপারিশ করা হবে। এটা নিয়ে কারও বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, গত ১০/১৫ দিন ধরে মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের নেতা দাবি করে মিরপুর রোড শ্রমিক কমিটির নিকট হতে প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বাদী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকাসহ ইলেকট্রনিক্স প্রিন্ট মিডিয়াতে খারাপ প্রতিবেদন প্রকাশ করাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে মোজাম্মেল হক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী ভয়ে তাকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তখন মোজাম্মেল হক বলে বাকি টাকা ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় দিতে বলে চলে যায়। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। পরে পুলিশ ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করে ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে রিমান্ড চায়। এর আগে বুধবার রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুলাল নামের এক ব্যক্তি ৪ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ