আকাশবার্তা ডেস্ক :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, এবার আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি এখন প্রস্তুত। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাওয়ার শক্তি অর্জন করেছে। কারো গৃহপালিত বিরোধীদল আর থাকবে না।
শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক যৌথ সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার অনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাতে রক্তের দাগ আছে। আমার হাতে নেই।
তিনি বলেন, অনেকেই আমার কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচন কেমন হবে? নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কী? উত্তরে আমি বলতে চাই, আমরা জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।
আমরা সাধারণ কাজকর্ম করব। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং একে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণ নিরাপদে ভোট দিতে পারুক, আমরা এটা চাই। ইনশাল্লাহ, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবে।
এরশাদ বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। আগে আমাদের প্রার্থী দিতে বাধা ছিল। এখন আর কোনো বাধা নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার পথও সুগম হয়ে গেছে।’
আগামী ৬ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষণা দেব আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কেমন হবে? এখন থেকেই নির্বাচনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো রাজনীতিবিদ আমার মত নির্যাতনের শিকার হননি। তারপরও মাথানত করিনি। আমার একটাই লক্ষ্য, ক্ষমতায় যাওয়া। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। এর থেকে পিছিয়ে যাব না। কারও লেজুড়ভিত্তিক ও গৃহপালিত বিরোধীদলও হব না।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমাদের এবারের সংগ্রাম ক্ষমতায় যাওয়ার সংগ্রাম। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম।’ ‘পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা এবং যমুনা সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ জাতীয় পার্টির শাসনামলেই হয়েছে। আমাদের আমলেই নতুন রাস্তাঘাটসহ সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আমলেও এতো উন্নয়ন আর হয়নি। এবার জনগণকে বোঝাতে পারলেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’