শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনাকেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে হবে

বিশেষ সম্পাদকীয় :


চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বর্তমান সংবিধানের আলোকে শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের বাইরেও নবগঠিত যুক্তফ্রন্টসহ এন্টি আওয়ামীলীগ মতাদর্শের সব শ্রেণিপেশা থেকে আবারো দাবি উঠেছে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। এ জন্য আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবং নবগঠিত যুক্তফ্রন্টসহ সকল দলকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার জোর তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তফ্রন্টের নেতাদের আলোচনায় জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জামায়াত থাকলে বিএনপির সাথে রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে আগ্রহী নয়। একইভাবে মত প্রকাশ করেছেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী। যুক্তফ্রন্টের নেতারা সবাই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে এসব নেতারা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও জামায়াত ছাড়া অন্যান্য দলের নেতাদের অনেকেরই মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতি এবং স্বার্থের কারণে আজকে এসব নেতারা আওয়ামীলীগ বিরোধী জোটে অবস্থান করছে। যা কী’না নীতিগত কারণে হলেও হওয়ার কথা ছিলনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী কেউ আওয়ামীলীগের বাইরে থাকতে পারেনা। কিন্তু কেন এসব নেতারা আজ শুধু এন্টি আওয়ামীলীগই নয়, আর একটি দিনও আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকুক তারা তা চায়না।

নানা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনায় যা দেখা যাচ্ছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ হবে। বিএনপি চাইছে আওয়ামীলীগের বাইরে থাকা সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একই ফ্ল্যাটফরমে সামিল করানো। কিন্তু এর জন্য বড় বাধা হচ্ছে, জামায়াত। কারণ জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত বিরোধী শক্তি। জামায়াত থাকলে কেউই বিএনপির সাথে জোটের শরীক হতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী দল না হলেও স্বৈরাচারী একটি বদনাম রয়েছে তাদের। তবে, এখানে একটি কথা আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী দল জামায়াতের চাইতে স্বৈরাচার অনেক ভালো। যার কারণে আরেকটি তৎপরতা চলছে ভেতরে ভেতরে বিএনপি-জামায়াতের বাইরে এরশাদের নেতৃত্বে ইসলামপন্থী অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ে বৃহত্তর তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের। এই জোট গঠন কতটা সফল হবে, সেটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টকে বিএনপির সাথে জোটের প্রস্তাব করা হলে যুক্তফ্রন্টের নেতারা শর্ত দিয়েছেন যুগপথ নির্বাচন করলে এবং সরকার গঠন করতে পারলে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে অন্তত দুই বছর সরকার পরিচালনার সময় চেয়েছেন তারা। পাশাপাশি নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপির কাছে ১৫০টি আসন চেয়েছেন। এতে বিএনপির নেতারা তাৎক্ষণিক জবাব না দিলেও ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সরাসরি দলের নেতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা বলছেন, যুক্তফ্রন্টের ১৫০ আসন দাবি হাস্যকর। কারণ যুক্তফ্রন্টের সারাদেশে ১৫০ জন কর্মীও নেই। তারা কীভাবে ১৫০ আসন দাবি করেন। বিএনপির জনপ্রিয়তা এবং ভোট কাজে লাগিয়ে তারা এমপি হতে চায়, অথচ এসব নেতারা শুধুমাত্র যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে ভোট করলে জামানতও পাবেনা।

এদিকে বিগত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনের মত আরেকটি নির্বাচন আওয়ামীলীগও চায়না। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গণসংগঠন হচ্ছে আওয়ামীলীগ। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের জনগণের সবঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামীলীগ। জন্মগতভাবে আওয়ামীলীগ গড়ে ওঠেছে ক্ষমতার বাইরে থেকে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চলার পথ কখনও আওয়ামীলীগের জন্য মসৃণ ছিলনা। সেই আওয়ামীলীগ কেন একলা চলো নীতিতে এগিয়ে যাবে। যেই দলের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠন করতে সবাইকে হুমড়ি খেয়ে পড়ার কথা। আজ সেই দলের বাইরে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট বা মোর্চা গড়ার তৎপরতা কেন চলবে? এ সুযোগও বা আওয়ামীলীগ দিবে কেন? আওয়ামীলীগের ভিতরকার একটি গোষ্টির সবসময় স্বার্থবাদি চরিত্রের কারণে ভিন্নমত পোষণকারীদের জায়গা দিতে চায়না। অথচ এসব ভিন্নমত পোষণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।

আগামী জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি টার্ণিং পয়েন্ট। এ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি হেরে গেলে শুধু উন্নয়নই থমকে যাবেনা, গণতন্ত্রও সুদূর প্রসারী হুমকির মুখে পড়বে। অথচ সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এখন আওয়ামীলীগকেই তাড়াতে চাইছে সবাই। এই চক্রে যুক্ত হয়েছে কিছু কথিত সুশীল সমাজের লোকজন। সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সুজনের কর্ণধার বদিউজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. জাফরুল্যাহ চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহীদুল আলমসহ ক্লিন ইমেজের এসব লোকও এখন আওয়ামীলীগ তাড়াতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার টানা দশবছর দেশ পরিচালনা করছে। গত দশবছরে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া এককভাবে দেশের অর্থ দিয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, এলিভেটেড রেললাইন ও মেট্রোরেল নির্মাণ, জেলাভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, ১৮ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে উন্নীত করণ, ঢাকা শহরের আধুনিকায়নসহ অনেক মেঘাপ্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এসব মেঘাপ্রকল্পগুলো অন্য কোনো সরকার থাকলে সাহসও করতো না। শুধুমাত্র গণতন্ত্র এবং সুশাসনের দোহাই দিয়ে উন্নয়ন বান্ধব এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যারা একাট্টা হয়েছেন তারা সুশীল হতে পারে না।

এমনি এক বাস্তবতায় শেখ হাসিনাকেই হালধরে উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে বাস্তবধর্মী। সমমনা রাজনৈতিক দল এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল মতকে এক কাতারে সামিল করতে হবে। ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী এরা কেউই আওয়ামীলীগের বাইরের নয়। অপরদিকে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কর্ণেল অলি আহমদের মত লোক তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং জামায়াত বিরোধী। তাহলে এসব ব্যক্তিদের আওয়ামীলীগ বিরোধী জোটে ঠেলে দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, এটি একটি অবান্তর কথা বলেই আমি মনে করি। কারণ নীতিবিবর্জিত রাজনীতি হতে পারে না। মানুষের কল্যাণেই যদি রাজনীতি হয়, তাহলে অবশ্যই শেষ কথা থাকতে হবে।

এখন সময় হয়েছে, রাগ-অনুরাগ নয়। দেশ ও মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে সকল সমমনা রাজনৈতিক দল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভক্ত সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একই ফ্ল্যাটফরমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। এর জন্য শেখ হাসিনাকেই এগিয়ে এসে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। না হলে দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, উন্নয়ন সুদূর প্রসারী হুমকির মুখে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক

ahossain640@gmail.com

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮