বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

ড. কামাল-বি চৌধুরীর ৫ দফা

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


জাতীয় সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ পাঁচ দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট। নিজেরা জোট বেঁধে ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরুর অঙ্গীকার ঘোষণার পর শনিবার (১৫সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিনামা তুলে ধরেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, আ ব ম মোস্তফা আমিন, সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, আবদুল মালেক রতন, মোশতাক আহমেদ, সরদার শামস আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাড়ি থেকে রওনা হলেও অসুস্থতার কারণে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না জানান। বিকল্প ধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের লক্ষ্যে বি চৌধুরী, মান্না ও আ স ম রব গঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়ে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র ঘোষণা দেন কামাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে আমরা যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যৌথ ঘোষণা তুলে ধরলাম। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ঐক্য করতে চাই। পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে এই ঐক্য গড়ে উঠুক, যাতে দেশের জনগণ তার মালিকানা ফিরে পায়। “আমি বলতে চাই, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য আজকে শুরু হল। আপনাদের সকলকে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা সফল হব এবং বাংলাদেশে একটা কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবেই হবে।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি রব বলেন, “আমরা সকল গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী দিনের আন্দোলনে ১৬ কোটি মানুষকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈদিক দল ব্যক্তি বাদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও নাগরিক সমাজকে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচি কী- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, “আমরা আজকে ঘোষণা দিলাম- এটাই একটা কর্মসূচি। সামনেও কর্মসূচি হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না সবার পক্ষে বি চৌধুরী ও কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ৫ দফা দাবি এবং ৯ দফা লক্ষ্য সম্বলিত ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান।
ঘোষণায় বলা হয়, “আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগসহ সমগ্র রাষ্ট্রকে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের অধিকারসমূহ হরণ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশ, জাতি ও জনগণকে মুক্ত করে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই।”

৫ দফায় রয়েছে :
১। আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

২। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

৩। “কোটা সংস্কার” এবং “নিরাপদ সড়ক” আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।

৪। নির্বাচনের ০১ (এক) মাস পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর ১০ (দশ) দিন পর্যন্ত মোট ৪০ (চল্লিশ) দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করতে হবে।

৫। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর যুগোপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে গণমুখী করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য :
১। বাংলাদেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণ এবং একব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের লক্ষ্যে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ যুগোপযোগী সংশোধন করা এবং জনগণের ক্ষমতায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দোলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগদানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

২। দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন এবং ইতিপূর্বে দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

৩। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুব-সমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসাবে বিবেচনা করা।

৪। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।

৫। জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।

৬। রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

৭। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

৮। “সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব-কারো সাথে শত্রুতা নয়” এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে পারস্পারিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৯। বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

রব বলেন, “আজকে আমাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে যেতে দেয়নি। আমাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ময়মনসিংহে কর্মসূচি করতে দেওয়া হয় নাই। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার হাদিস পার্কে জনসভা আছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ আছে।”

কামাল হোসেন বলেন, “যখনই নির্বাচন দেওয়া হয়, আমাদের সকলকে এই আন্দোলনে নামতে হয়। নির্বাচন একটা নামকাওয়াস্তে নয়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন যদি ভেজাল হয়, জনগণ তাদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত হয়। “নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। আমি আশাবাদী যে, জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।”

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে যুক্তফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা হয়। এরপর এই প্রক্রিয়ার সাথে ড. কামালের নেতৃত্বে গণফোরামও যুক্ত হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১