আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিরোধীদল বিএনপির একটি জনসমাবেশ পূর্বঘোষিত সময় থেকে আরও একবার পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন তারিখেও ওই সমাবেশটি আদৌ হতে পারবে কিনা, সে সম্পর্কে নেতারা পুলিশের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চয়তা পাননি বলে দলের তরফে জানা যাচ্ছে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের পরামর্শে তা একদিন পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছ থেকে কোনো কনফার্মেশন পাইনি, ‘ফলে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কনফিউশন (বিভ্রান্তি) রয়েছে।’ এই অনিশ্চয়তায় সমাবেশের জন্য বিএনপির প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে নতুন তারিখে সমাবেশের সিদ্ধান্তের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। বিএনপির নেতারা দলের পূর্বঘোষিত সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেয়া বক্তব্যকে ‘সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিতবাহক’ এবং ‘উসকানিমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে আওয়ামী লীগ বলছে, বহু আগে থেকেই ওইদিন তাদের সমাবেশের পরিকল্পনা ছিল। এই পটভূমিতে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি এবং দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে দেখা করে সমাবেশের তারিখ নিয়ে আলোচনা করেন। রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলছেন, ওই বৈঠকেই ডিএমপি কমিশনার একদিন পিছিয়ে আগামীকাল (৩০ সেপ্টেম্বর) সমাবেশ করতে তাদের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী বিএনপি থেকে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়েছে। ‘আমাদের সমাবেশটি প্রথম হওয়ার কথা ছিল গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের পরামর্শেই সেটি পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বও (আজ) করা হয়েছিল। এখন আবার পুলিশের পরামর্শেই সমাবেশ পেছাতে হচ্ছে’ বলছেন আহমেদ। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনসহ বেশকিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করছে।
৩০ তারিখ জনসভা করবেই বিএনপি
আগামী রোববার ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপি জনসভা করবেই বলে ঘোষণা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জনগণ অপকর্মের জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দুরভিসন্ধিমূলক। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে নির্বাচনের আগে এই কালো আইন পাস করেছে ভোটারবিহীন সরকার। এই আইন তৈরি করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ-এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মওদুদ আহমদ। আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, বিএনপিকে ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া কারো নাই। ৩০ তারিখ জনসভা করার জন্য জনগণ প্রস্তুত আছে।
‘সমাবেশের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না’
রাজধানীতে বিএনপির ডাকা ডাকা সমাবেশের বিষয়ে নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সমাবেশের নামে সন্ত্রাসী কর্মকা- করলে সহ্য করা হবে না। গতকাল শুক্রবার সকালে মাদারীপুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী। নৌমন্ত্রী বলেন, যে কারোই সভা-সমাবেশ এবং কথা বলার অধিকার আছে। তবে সমাবেশের নামে যদি কেউ সন্ত্রাসী এবং নাশকতামূলক কর্মকান্ড করে তাহলে কোনো ক্রমেই সহ্য করা হবে না। মন্ত্রী এ সময় জাতীয় ঐক্যের নামে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যের নেতাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ঐক্যের নামে তারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সেলিম প্রমুখ। পরে মন্ত্রী রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিদর্শন করেন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ