আকাশবার্তা ডেস্ক :
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পদ্মা সেতুর নামকরণ (শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু) হবে। ‘শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু’ নামকরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছে এবং সেজন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে সার সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৯সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সেতু প্রকল্প এলাকায় তিনি এসব কথা বলেন।সেতুমন্ত্রীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদেরসহ আরও অনেকে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মাসেতুর নামকরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বারবার বলেছেন পদ্মা নদীর নামে সেতুর নাম হবে। কিন্তু সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নামকরণের কথা চিন্তা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সৎ সাহস দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি বঙ্গবন্ধুর বীর কন্যা। সে কারণে ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব ফান্ডে সেতু নির্মিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে চায়। সেতুর নামকরণের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে বহু চিঠিপত্র আসে, সবার অভিমত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে সেতুর নামকরণ হোক।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সাহস দেখায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার একক অবদানের জন্য এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি সাহায্য ছাড়াই সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মাসেতুর নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ ও মূল সেতুর অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। আগামী ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প এলাকায় এসে ৬০ শতাংশ কাজের উদ্বোধন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেই পুরো পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বহুল আলোচিত পদ্মসেতু প্রকল্প পাস করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মাসেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে পদ্মাসেতুর ব্যয় দাঁড়িয়েছে সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।