আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০১ সালে গভীর চক্রান্ত করে আমাদের আসতে দেয়নি এবং ১৯৯১ সালে এই চক্রান্ত আমার দলের ভিতরেও ছিল বাইরেও ছিল। দলের ভিতর চক্রান্তটা কোথায়? যাই হোক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক আমি যেন কিছু না হতে পারি। ওটা করতে গিয়ে এমন এমন প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হল যারা জিতে আসতে পারেনি। আর যাদের আমরা মনোনয়ন দেই নাই। দিলে তারা জিততো তাদের তারা লুফে নিলো, এরকম বহু ঘটনা ও অভিজ্ঞতা আমি বলছি এবং বহু আছে।’
১৯৭৫ এর ঘাতকের দল, ৭১’র পরাজিত শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে শক্তি চক্রান্ত করে ১৫ আগস্ট ঘটাল এদেশে। যে শক্তি বারবার আঘাত হেনেছে। শুধু ২১ আগস্ট না, ’৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি বা ৮১ সাল থেকে আমি বাংলাদেশে পা দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তার পেছনে তারা রয়েছে।’
এতো ষড়যন্ত্র ও হত্যাচেষ্টার পরও নিজের বেঁচে যাওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বোধহয় সেজন্য বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু ওই রকম বারবার মৃত্যুকে মুখোমুখি নিয়ে চলা, এটা অনেকেই চলতেও পারে না। সে সাহসও পায় না। সেভাবে করতেও পারে না। তারপর আবার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত মোকাবিলা করতে হয়েছে।
কারণ আমাদের দেশে একটা শ্রেণি; ৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনঅর সাথে জড়িত তারা তো রয়ে গেছে। তাদের বংশধর তো রয়ে গেছে। তাদের চক্রান্ত তো অনবরত চলছে এবং তারা করেই যাচ্ছে। সেখান থেকে একটা শ্রেণি গড়ে উঠেছে, তারা জানেই যে তারা ভোটের রাজনীতি পারবে না। তারা জানে যে তারা দল করতে পারে না। তারা মাঠে যেতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ তাদের।’
‘এই ক্ষমতার লোভে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথেই তারা হাত মেলায়, খুনিদের সঙ্গে ঘাতকের সঙ্গে হাত মিলায় এবং তারা কিন্তু সারাক্ষণ আমাদের বিরুদ্ধে লেগেই থাকে। সেটা আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছু পত্রিকা আছে আমি জানি তারা প্রস্তুত অনেকগুলি তথ্য নিয়ে বসে। তারা একটার পর একটা ছাড়বে। যেখানেই আমাদের কোন অর্জন, যেখানেই মানুষ একটা বাহবা দিচ্ছে, সেখানেই প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আর আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেই হোক বা দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেই হোক সেগুলোকে খুব গুরুত্ব দিয়েই আমাদের লোকগুলোর বিরুদ্ধে লেগে যায়। কাজেই এইসব ব্যাপারে আমাদের কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে।’
সফরকালে মানবিক দিক বিবেচনায় বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে শান্তিপূর্ণ কূটনীতিক প্রচেষ্টার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিস এবং গ্লোবাল হোপ-এর কাছ থেকে দু’টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কার দু’টি দেশের জনগণকে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, এবারের সফরে অনেক সম্মান পেয়েছি। বিশ্বনেতাদের দেওয়া এ সম্মান বাংলাদেশের সম্মান, পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করলাম।
সোমবার (১ অক্টোবর) সকালে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।গণভবনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে যোগদান করতে প্রধানমন্ত্রী গত ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। শেখ হাসিনা ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী নেদারলান্ডের রানী ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কলজুলেইদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে, ট্রাম্প আয়োজিত স্বাগত সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কন্যাশিশু শিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদক সমস্যা সংক্রান্ত বেশকিছু উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানেও যোগদান করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত গোল টেবিল মধ্যাহ্ন ভোজ আলোচনাতেও যোগ দেন।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০ লক্ষাধিক মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারপ্রেস সার্ভিসেস নিউজ এজেন্সি কতৃর্ক প্রদত্ত ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট এওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন।
গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস তাঁকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালের ‘আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ এওয়ার্ড ও প্রদান করে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সংবর্ধনাতেও যোগ দেন শেখ হাসিনা।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ