আকাশবার্তা ডেস্ক :
এ বছর যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন কঙ্গোর ড্যানিশ মুকওয়েগা ও ইরাকের নাদিয়া মুরাদ। যুদ্ধক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তারা দু’জন বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজন এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন।
শুক্রবার (০৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটার দিকে অসলোতে নরওয়ের নোবেল অ্যাকাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে।
শুক্রবার নোবেল কমিটি তাদেরকে পুরস্কারজয়ী ঘোষণা করতে গিয়ে বলে, ‘তারা দুইজনই সাহসীভাবে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।’
নাদিয়া মুরাদের বয়স ২৫। মালালা ইউসুফজায়ীর পর তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। ২০১৪ সালে ইয়াজিদি নারীদের অপহরণের সেই ঘটনায় অপহৃতদের একজন ছিলেন নাদিয়া মুরাদ। আইসিস জঙ্গিরা তাদের উত্তর ইরাকের সিনজার অঞ্জলের কোচো এলাকার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলো। নাদিয়া মুরাদের সঙ্গে আরও অপহৃত হয়েছিলেন তার বোনেরা। ওই হামলায় তারা তাদের মাকে হারিয়েছিলেন, হত্যা করা হয়েছিলো তাদের ছয় ভাইকে।
এর আগে ২০১৬ সালে যুগ্মভাবে ইইউ’র মর্যাদাকর সাখারভ হিউম্যান রাইটস পুরস্কার জয়ী হন নাদিয়া মুরাদ। এছাড়াও সেবছরই তিনি ভূষিত হন কাউন্সিল অব ইউরোপের ভ্যাকলাভ হ্যাভেল হিউম্যান রাইটস পুরস্কারে।
কঙ্গোর গায়নোকোলজিস্ট ডেনিস মুকওয়েগার নামটি বছরের পর বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিলো এই নোবেল পুরস্কারের তালিকায়। প্রায় ১০ বছর ধরেই তার নাম আসছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়। তবে এবার আর বাদ পড়েননি।
দ্য গার্ডিয়ান’র সম্পাদক ক্যাথরিন ভিনার তাকে জীবিতদের মধ্যে বিশ্বের মহান ব্যক্তিদের একজন বলে আখ্যা দিয়েছেন। ডেনিস মুকওয়েগা তার জীবনের একটা বড় অংশই কাটিয়ে দিয়েছেন কঙ্গোয় যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তায়। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি দিয়েছেন বেঁচে থাকার ও লড়াই করার শক্তি।
১৯০১ সাল থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৯৯ বার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। পুরস্কারের ছয়টি ক্যাটাগরির মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরির বিজয়ী সুইডিশ নোবেল কমিটি ঘোষণা করলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা নরওয়ে কমিটি দিয়ে থাকে। এ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন একজন। তিনি হলেন ভিয়েতনামের বিপ্লবী, কূটনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লি ডাক থো। এ পর্যন্ত শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তদের মধ্যে ২৪টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল তার মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। তবে পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল।
আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করা এবং নোবেল পুরষ্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। আর বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।