আকাশবার্তা ডেস্ক :
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নানা কালাকানুন করে গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছে আওয়ামী লীগ। মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে।
সোমবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
তিনি বলেন, ‘আমি আবারও প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে আপনার ক্রোধাগ্নি নির্বাপণ করতে পারেননি, এর ওপর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পাথর চাপা দিয়ে সারাজাতির দম বন্ধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন করে আপনারা গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছেন। এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে। আপনার নির্বাচনে ভোটারদের কোনো অস্তিত্ব নেই, আপনার অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা ভোট ডাকাতি।’
রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমগুলোর মালিক ও সাংবাদিকরা চরম আতঙ্গে আছেন। এরপরেও কী আপনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলতে হবে?
আইটি খাতের লাখ কোটি ডলারের দুর্নীতি মানুষের অজানা নয় মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত সেটিও মানুষ অবগত। একদিন হুড়মুড় করে সব বেরিয়ে পড়বে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়েও সেটি আটকানো যাবে না।
‘হাজার হাজার বিচার-বহির্ভূত হত্যার হিড়িকে দেশব্যাপী আতঙ্ক ও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে’- অভিযোগ করে বিএনপির এ মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই অবস্থায় আপনাকে কি বলতে হবে আইনের শাসনের সরকারের প্রধান? ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আপনি লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে লাশের ওপর নৃত্য করালেন। এবার ক্ষমতায় এসে বিএনপির মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ছাত্র-যুবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের গুম হওয়া-যা প্রত্যক্ষভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দ্বারা সংঘটিত হয়েছে- তারপরেও কি আপনাকে মানবতার জননী বলতে হবে?
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেই সংখ্যালঘুদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন হয়। অবৈধ সরকারের শাসনামলে দেবালয়ের পুরোহিত থেকে শুরু করে বিদেশিরাও হত্যার শিকার হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত জীবন্ত মানুষকে লাশ করার কাজ করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নিজেকে একক ভাষ্যকারে পরিণত করে বক্তৃতায় অন্যকে খুনি, দুর্নীতিবাজ বলছেন, অথচ খুন, জখম যে আওয়ামী শাসনের ঐতিহ্য, তা কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি। মানুষ ভুলে যায়নি ’৭২ থেকে ’৭৫ এ হাজার হাজার প্রগতিশীল নেতাকর্মীর হত্যার কথা। ভুলে যায়নি প্রথম বিচার-বহির্ভূত হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারের হত্যাকাণ্ড এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর আস্ফালন-এরপরেও কি আপনাদেরকে শান্তির বার্তাবাহক বলতে হবে?
বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। জনগণের এই টাকা নয়-ছয় করেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও আত্মীয় স্বজনদের কেউ কেউ সিঙ্গাপুরে শ্রেষ্ঠ ধনী হচ্ছেন, মালয়েশিয়া ও কানাডায় সেকেন্ড হোম ও বেগম পল্লী গড়ে তুলছেন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ