আকাশবার্তা ডেস্ক :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে। ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি, নির্বাচন হবে কি-না জানি না। তবে জাতীয় পার্টি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব না। তবে আমরাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
ক্ষমতায় এলে জাপার পরিকল্পনা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চায়। বিচার বিভাগ স্বাধীন করাসহ ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখবে। শিক্ষা পদ্ধতির পরির্বতন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় জাপা।
অতীত ইতিহাস তুলে ধরে এরশাদ জানান, তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। শান্তিতে ঘুমাতেও পারেননি। জনগণের কথা চিন্তা করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যেতে চায়। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কৌশল তুলে ধরে এরশাদ বলেন, আমরা জোটগতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুত। আশা করি, ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েই নির্বাচন করব। তবে নতুন মেরুকরণ হতে পারে।
তিনি বলেন, পোস্টার ও ব্যানার দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শিগগিরই পার্লামেন্ট বোর্ড গঠন করা হবে। যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নাও। আমরা শিগগিরই নির্বাচনী যাত্রা শুরু করব।
এর আগে এরশাদ বলেন, ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখনও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। সবসময় শঙ্কায় থাকি, কখন জেলে যাব।
তবে এই শঙ্কা সত্ত্বেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। আর আগামী নির্বাচন আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এই সময়ে দেশের মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতেই আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই দেশ ও জাতির জন্য।
এরশাদ আরও বলেন, দেশের মানুষ খাদ্যের নিরাপত্তা চায়, শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন চায়, সড়কের নিরাপত্তা চায়। বাচ্চারা বলেছে রাষ্ট্রের মেরামত করতে, আমরাও রাষ্ট্রের মেরামত চাই। আমরা নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। সন্ত্রাস দমনে কঠিন পদক্ষেপ নিতে চাই।