বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

আকাশবার্তা ডেস্ক :


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার মন্ত্রিসভার আকার কমানো নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিরোধী দলের চাহিদা থাকলে এ ব্যাপারে ভেবে দেখা যাবে।

সোমবার (২২অক্টোবর) বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। সৌদি আরব সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলে আসছিলেন, ২০১৩ সালের মত এবারও ভোটের আগে ‘ছোট আকারের নির্বাচনকালীন’ সরকার গঠন করা হবে। চলতি বছরের শুরু জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নিজেও তেমনই আভাস দিয়েছিলেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মন্ত্রীসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার এবার কখন হবে এবং তার ধরন কেমন হবে।

প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট করব, সে সুযোগ খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে অসুবিধা আছে?’

এ সময় নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আইনে তো নাই।

তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনেও নাই, কোথাও নাই। আমি বলেছিলাম ২০১৪ সালের ইলেকশনের আগে আমি যেহেতু বলেছিলাম, সব দল এক হয়ে। তখন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, তাকেও আমি আহ্বান করেছিলাম। তারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছিল না, তাদেরকে নির্বাচনে আনার জন্য বলেছিলাম, আসুন সকলে মিলে সরকার গঠন করি, তাহলে কারও কোনো চিন্তার কিছু নাই। যেকোনো মিনিস্ট্রি চাইলে আমি দিতে রাজি ছিলাম। তাদেরকে নিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এলো না। পরে অন্য বিরোধী দলে যারা তাদেরকে নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন সেই মন্ত্রিসভাটা ছোট আকারে করেছি এবং ইলেকশনটা আমরা করি। ‘এবারের বিষয়টা হচ্ছে, আমরা মেজরিটি পাওয়া সত্ত্বেও আমি আমাদের যারা প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পার্লামেন্টে আছে, সব দল থেকে নিয়েই একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। সেই মন্ত্রিসভা নিয়েই কিন্তু চলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতার সাথেও কথা বলেছি এ ব্যাপারে। তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তাকে বলেছি, আপনারা যেভাবে চান, আমরা করতে পারব। যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, এখন জানি না এটার খুব প্রয়োজন আছে কি না।’

‘আর কাটছাট করলে আমাদের তো অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে, সত্যি কথা বলতে কী এতগুলো প্রজেক্ট ইতিমধ্যে আমরা পাস করেছি, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি এখন কয়েকটা মন্ত্রণালয় একজনের হাতে দিই তাহলে সেই কাজগুলো করতে পারবে না।’

‘কিন্তু এই দুই তিন মাসের মধ্যে অনেকগুলো কাজ আমাদেরকে করতে হবে। এই কাজগুলো করতে গেলে পরে, জানি না কাউকে সরালে কাজগুলো ব্যাহত হবে কি না, এই সমস্যাটা রয়ে গেছে। কারণ আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই। সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে। আপনারা দেখছেন কীভাবে পরিশ্রম করছে।

আমরা একদিনে ১৭, ১৮, ১৯টা প্রজেক্ট পাস করে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যতটুকু সময় পাচ্ছি, দেশের ডেভেলপমেন্ট করে যাচ্ছি। এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা হবে কি না, সেইটা হচ্ছে প্রশ্ন। সেই চিন্তাটাও রয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করেছি। আর অন্যান্য দেশে যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, সেখানেও আমি আলাপ করে দেখেছি, যেমন অস্ট্রেলিয়াতে আছে, নিউজিল্যান্ডে আছে, ব্রিটেনে আছে বা ভারতে আছে, কেউ কিন্তু কোনো পরিবর্তন করে না। আমি জিজ্ঞেস করেছি। বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছি সবার কাছ থেকে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করি। সবাই বলেছে, এ রকম কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমরা যেভাবে থাকি, ইলেকশন করি সেভাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। যদি ডিমান্ড করে অপজিশন তাহলে করব, আর না করলে কিছু করার নাই।’

নির্বাচনকালীন সরকারে সুশীল সমাজের কেউ অন্তর্ভুক্ত হবে কি না এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুশীলরা সুশীলই থাক। আমার মন্ত্রী হলে তো শেষে সুশীল থাকবে না। তখন সুশীল নামটা চলে যাবে। তখন তো তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে, ক্ষতি হয়ে যাবে না?’

সংশয় নেই, যথাসময়ে সংসদ নির্বাচন হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে হবে। এর প্রস্তুতি নেবে নির্বাচন কমিশন। যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখে তার চায় না দেশে গণতন্ত্র থাকুক। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করছে তাদের উদ্দেশ্য সবাই জানে। যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। তারা চায় না দেশে গণতন্ত্র থাকুক। নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐকবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে।

নতুন জোটকে স্বাগত জানাই
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নতুন জোটকে স্বাগত জানাই। কিন্তু জনগণকে দেখতে হবে ঐক্যফ্রন্টে কারা আছে, তাদের ইতিহাস জানতে হবে। খুনী, দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন গংরা একত্রিত হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐকবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা) সেখানে যুক্ত হয়েছেন, তারা কেমন, মেয়েদের প্রতি কেমন মনোভাব তাদের, সেটাও সবাই দেখেছেন। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নরাও রয়েছে। সবাই মিলে এক জায়গায় হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে দেখেন সেটাই বিষয়। ‘অনেকেই (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের) আওয়ামী লীগে ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগ থেকে চলে গেছেন। রাজনীতিতে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আছে।’ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতদিন তাদের দাবি ছিল চারটি, এখন তা সাত দফা হয়েছে। দফা কত উঁচু হয় সেই অপেক্ষায় আছি।

সড়কে নিরাপত্তা
সড়কে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো শুধু ড্রাইভারদের দোষ দিয়েই খালাস, পথচারীদের দোষ দেখি না। যে শিশুরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করলো, তারাই রাস্তার মধ্য দিয়ে দৌড় দেয়। শুধু শিশুরা নয়, বৃদ্ধ-যুবক কেউই ট্রাফিক আইন মানেন না। পথচারীরা আইন না মানলে নিরাপদ সড়ক সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে আসবেন সৌদি বাদশাহ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সৌদি বাদশাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১