আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রশ্ন ফাঁসের জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করা সাড়ে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ডিন’স কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ডিন’স কমিটির সভা ছিল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সভা হলো। সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ৷ ‘ঘ’ ইউনিটে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার পরীক্ষার্থী পাস করেছে। ডিনরা তাদের আরেকটা পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেন। পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও যুগ্ম সমন্বয়কারী ডিনরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষার তারিখসহ অন্যান্য তথ্য পরে গণমাধ্যমকে জানাবেন৷
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে ৯টা ১৭ মিনিটে ওই পরীক্ষার উত্তরসহ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরে প্রশ্নপত্র যাচাই করে দেখা হয় পরীক্ষার আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ৭২টি প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু মিলেছে।
গণমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কমিটি তার অনুসন্ধানে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পায়।
এই প্রমাণ পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ১৬ অক্টোবর ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করে। এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে ১৬১৫টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলেন ৯৫ হাজার ৩৪১ জন। এর মধ্যে পাশ করে ১৮ হাজার পরীক্ষার্থী।
প্রশ্নপত্রের বিষয়টি সুরাহা না করে ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আইন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র অনশন শুরু করে। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ফের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। ছাত্রলীগ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আবার পরীক্ষা নেওয়ার দাবিসহ চার দফা দাবি জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ওই সময় ছাত্রলীগের দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করেন। উপাচার্য দেশে এলে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
তবে সোমবার (২২ অক্টোবর) উপাচার্য দেশে এসে আজ অধিকতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান করা হয় প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদকে। কিন্তু ওই কমিটি আগের বছর অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে থাকলেও তারা প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ