আকাশবার্তা ডেস্ক :
জামায়াত! চার অক্ষরের আলোচিত-সমালোচিত দলটি এখন হঠাৎ চুপচাপ! নীরবেই কলকাঠি নাড়ছে। ক্ষোভে-কষ্টে আ.লীগকে ছাড় দেবে না, এখন বিএনপিকেও কৌশলে মারবে। বিএনপির ঘরে আ.লীগের চাইতে এখন জামায়াতই বড় আতঙ্ক। আ.লীগ বিএনপির নেতৃত্বে আঘাত হানছে আর জামায়াত বিএনপির জনপ্রিয়তাকে ধ্বংস করছে! সম্প্রতি উত্তরা ও মহাখালীতে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার বাসায় কিছু নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে দলের এই বিশ্লেষণ উঠে আসে।
এ নিয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপি রাজনৈতিক ইতিহাসে চরম সংকট পার করছে। বিএনপির বিকল্প নেতা তারেক রহমানকেও দলের শীর্ষ নেতারা বিকল্প হিসেবে মানতে নারাজ। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট নেতারা যে তারেকবিরোধী তা ব্যারিস্টার মইনুলের গোপন ফোনালাপ ও গতকাল ড. কামালের সংবাদ সম্মেলনের পর তা স্পষ্ট।
মইনুল গোপন ফোনালাপে বলেন, ‘আমাদের মিটিং, আমি তারেকের সঙ্গে মিটিংয়ে যাব কেন? এটি কোথাকার ছাগল? এটা গরু, কাউ না মুরগি?’ ‘আমরা তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই ড. কামালকে আনছি।’ আর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য কোনো বিশেষ নেতার প্রতি সমর্থন হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগকে দেখার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মত, বিএনপির নিস্তেজ ভূমিকায় আ.লীগকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে না। জামায়াতেরও স্পষ্ট বার্তা আগের মতো রাজপথে ভূমিকা রাখার সেই পরিস্থিতি নেই। অবশ্যই সে সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। এবার পারবেন তারও নিশ্চয়তা নেই। ১৫৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও আইনের দৃষ্টিতে অশুদ্ধ নয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপির বয়কট ছিলো রাজনৈতিক ভুল। তখন নির্বাচনে না যাওয়ার পেছনেও বড় ভূমিকা পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। ওই নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপির কোমর ভাঙে। এখনো সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না দলটি। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে হওয়া ওই দুটি বৈঠকে উঠে আসে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির হাল ধরতে মাস্টার প্ল্যানিংয়ে এগোচ্ছে।
এখন বিএনপিকে কৌশলে শেষ মার দিতে দেশের বাইরে হওয়া অঙ্কিত ছকে হাঁটছে! অক্টোবরের ১৫ তারিখের পর বিএনপির টানা আন্দোলন ছক তৈরি থাকলেও এখন ড. কামালকে নিজেদের ঘরে এনে উল্টোরথে হাঁটছে বিএনপি। ৫০-৮০টি সিটের লোভে আন্দোলনের ছক থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিএনপির আরেকটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মনে করছেন সংস্কারবাদী নেতারা।
তবে অবশ্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে শেষ সময়ে বিএনপি ৭-১০ দিনের কর্মসূচি থাকবে। পুরো দেশ অচলের টার্গেট থাকবে। সেই আন্দোলনের কোনো ফলাফল থাকবে না বলেও মনে করছেন তারা। বৈঠক সূত্রের ভাষ্য, তাদের কাছে জামায়াতের ভূমিকার বিশ্লেষণ হচ্ছে এমন, বিএনপি আন্দোলনের জনপ্রিয়তা হারালে আগামী দিনের নেতৃত্ব তাদেরই (জামায়াত) হাতে। ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হলে তৃণমূলে দ্বন্দ্ব হবে, সেই সুযোগে ভাঙা কোমর সোজা করবে জামায়াত। প্রায় শতাধিক আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলে সেখানে কৌশলে বিকল্প স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে জামায়াত! তাদের ধারণা এ কৌশলে ভোট ব্যাংকে জামায়াতের পাল্লাই ভারী থাকবে।
জামায়াতের প্রার্থী তৃণমূলে অবস্থান আছে রাজনৈতিক আদর্শে এবং সাংগঠনিক শক্তিতে ড. কামাল হোসেন, আসম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার দলের প্রার্থী থেকে অনেক জনপ্রিয় থাকবে। কারণ দেশের রাজনীতিতে সাংগঠনিক শক্তির বিচারে আ.লীগ-বিএনপির পর সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল জামায়াত। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ক্ষমতায় যেতে চায় তা এখন স্পষ্ট। জোটের রশি ধরে ক্ষমতার ভাগ পেতে চায় তারা। এ সুযোগে জামায়াত চুপচাপ সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন তারা জোটের সঙ্গে, আবার তাদের নিবন্ধন না থাকায় হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার খোলসেও। জামায়াতের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা প্রায় শতাধিক আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি রেখেছেন। বিশেষ করে জামায়াতের টার্গেট বিএনপির দুর্গের এলাকাগুলো। তাদের ভাষ্য, যে সমস্ত এলাকায় আ.লীগ দুর্বল সেসব আসনে বিএনপির সাথে বিদ্রোহী হয়ে কিংবা স্বতন্ত্র হয়ে মাঠে প্রচারণায় নামলে ক্ষমতাসীনরা এই সময় তাদের কোনো ধরনের বাধা প্রধান করবে না।
বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও জেলায়। সব মিলিয়ে ৬০-৭০টি আসনে তাদের প্রার্থী থাকতে পারে বলে ধারণা জামায়াতের এক নীতিনির্ধারকের। তবে নির্বাচনের প্রার্থী নির্ধারণ নিয়েও দলে ভাঙন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে দলটিতে। অন্যদিকে জামায়াতের সংস্কারবাদী নেতাদের ভাষ্য এর আগে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক মাস্টার প্ল্যানিং ষড়যন্ত্রে তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছেন। এখন নির্বাচনের পরপরই ফের নতুন কৌশলে ষড়যন্ত্র হবে, তা তাদের মোকাবিলা করার রাজনৈতিক শক্তি নেই। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াত তিন দিক দিয়ে লাভবান হবে।
ক্ষতির দিক একটি হলেও সেটিতে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা এ মুহূর্তে জামায়াতের নেই। দলটির নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য তাদের আন্দোলনের কর্মী আছে, কিন্তু রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা এবং আধ্যাত্মিক নেতা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম আমার সংবাদকে বলেন, ‘কে কার সঙ্গে জোট করলো সেটা দেখার বিষয় নয়। উদ্দেশ্য সবারই এক। সেটা হলো এই সরকারকে পরাজিত করা। এই মূল দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। তাতে কেউ আমাদের জোটে রাখতেও পারে নাও রাখতে পারে। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।’
‘ভোটের মাঠে নামলেই বোঝা যাবে আসলে কার কতটা জনসমর্থন আছে। বক্তৃতার চেয়ে জনসমর্থনটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে’র অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না আমার সংবাদকে বলেন, ‘জামায়াত এখন কোনো দল নয়। তাদের নিবন্ধন নেই। সুতরাং আমরা বিএনপির সঙ্গে জোট করলে তাতে জামায়াত কোনো ফ্যাক্টর নয়।’ এখন দেশের পরিবর্তন প্রয়োজন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ