আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাইরে র্যাব-পুলিশের টহল। মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগের অবস্থান। মাঠ থেকে চলছে গ্রেপ্তার। বুধবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে মঞ্চে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন পরিস্থিতে আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাবি আদায়ের আন্দোলনে যাওয়ার পূর্বে প্রথমবারের মতো সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শুরু হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১.৫৫ মিনিটে সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ঐক্যফ্রন্টের সিলেট কর্মসূচির সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ পরিচালনায় সমাবেশটি শুরু হয়। সকাল থেকেই ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট মিছিল সহকারে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।
দুপুর হতেই সমাবেশ স্থলে আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদিন ফারুক, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামিমসহ কেন্দ্রীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা হাজির হন। মঙ্গলবার সিলেট এসেছেন বিএনপি, জেএসডি,গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বুধবার ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি উপলক্ষে শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা সিলেটে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার সিলেট পৌঁছেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিমউদ্দিন আলম।
এছাড়া বুধবার ভোরে সিলেট পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, এম এ হক, খন্দকার আবদুল মোকতাদিরসহ বেশ কয়েকজন নেতা।
বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন কামাল হোসেন। এই জোটে বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া মিলে মোট পাঁচটি দল রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে অগতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়াই এই জোট গঠনের লক্ষ্য। তবে নতুন এই জোটের নেতা কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো পদ পাওয়ার ইচ্ছা তার নেই। ‘গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাওয়াই তার লক্ষ্য। বিএনপির সঙ্গে জোট করলেও জামায়াতে ইসলামী ও তারেক রহমানের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন কামাল।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ