বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

‘সরকারকে বলব, সময় থাকতে ৭ দফা মেনে নিন’

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


সরকারকে বলব, সময় থাকতে ৭ দফা মেনে নিন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভবকে সম্ভব করে। কীভাবে ক্ষমতায় আছেন তার জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, জনগণ সংবিধানের মালিক। তফসিলের আগে সরকার সাত দফা দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে বিচার করার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন।

শনিবার (২৭অক্টোবর) চট্টগ্রামে কাজীর দেউরি এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নূর আহমেদ সড়কের সামনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামে এই নতুন জোটের দ্বিতীয় জনসভায় তিনি বলেছেন, “আজকে জনগণ ৭ দফার পক্ষে হাত উঠিয়ে গণরায় দিয়েছে। সিলেটেও গণরায় দিয়েছে। সরকারকে বলব, সময় থাকতে ৭ দফা দাবি মেনে নিন। অন্যথায় এটা অমান্য করার জন্য বিচার হবে।”

নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ অক্টোবর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়, যার সঙ্গে আছে আসম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য।

সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি রয়েছে এই সাত দফার মধ্যে, যার একটিও মানা হবে না বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভয় পেয়েছে। যে কারণে কাউকে সমাবেশ করতে দেয় না। প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশ লালদিঘীর ময়দানে হবার কথা ছিল। প্রশাসন সরকারকে সমর্থন করেছে। আমাদের সমাবেশে পদে পদে বাধা দেয়া হয়েছে। তারপরেও জনস্রোত হয়ে গেছে পুরো এলাকা।

তিনি আরো বলেন, মামলা অনেকে হয়েছে, ভৌতিক মামলা অনেক দিয়েছে। কিন্তু সাত দফা দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। সরকার নিজেরা নাশকতা-সহিংসতা করে। তারপর বিরোধীদলের ওপর দোষ দেয়। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না। আমরা ৭ দফা দাবি আদায় করে তবেই ফিরব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সবসময় বলার চেষ্টা করছে তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তোমাদের অধীনে নির্বাচন হবে না। মান্না বলেন, ‘গদি ছাড়তে হবে, ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে। আর যদি তা না হয়, তবে কীভাবে গদি থেকে নামাতে হয় তা জানি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। এটা তাজউদ্দীনের আওয়ামী লীগ নয়। এটা লুটপাটের আওয়ামী লীগ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি। গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য করেছি। এ ঐক্য ক্ষমতার ঐক্য নয়, জনতার ঐক্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় পাচ্ছে কেন? উন্নয়ন হয়ে থাকলে মানুষকে এত ভয় কেন! তাহলে বুঝতে হবে, ডাল ম্যা কুচ কালা হ্যায়।’

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই এ সরকারের পতন চাই। আমাদের ঐক্য আছে, ঐক্য থাকবে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ছাড়া সবাই এই ঐক্যে শামিল হবেন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘১০ দিন অপেক্ষা করুন, এর মধ্যে দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বুদ্ধিজীবী ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন। বামপন্থী, আওয়ামীপন্থী সব বুদ্ধিজীবী আসবেন। শুধু ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কী হয়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়া দেখে ভয় পাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভয় পাবেন না। ড. কামাল হোসেন আছেন, তিনি আপনাকে রক্ষা করবেন। কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল আপনাকে আইনি সহায়তা দেবেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনাও করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কথা ও কাজে মিল নেই। বর্তমান সরকার পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ শাসন চালু করেছে। ’ ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানান তিনি।

নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা
*অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। *গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। *বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। *কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

*নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্য্ন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। *নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। *তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১