এতে করে একদিকে বিলুপ্তি থেকে পাখি যেমন রক্ষা পাচ্ছে তেমনি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ কাজে মিস্টারকে সাহায্য করছে তার দুই সন্তান।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালে সুনামগঞ্জে এক পাখি শিকারীর হাতে আটকা পড়া পাখি দেখে তিনি খুব ব্যথিত হন। সেইদিন ওই শিকারীর কাছ থেকে পাখি কিনে বাড়িতে এনে লালন পালন শুরু করেন। এক পর্যায়ে পোষ মানিয়ে খাঁচা থেকে পাখি ছেড়ে দিয়ে হাঁস, মুরগি, কবুতরের সাথে মুক্ত অবস্থায় পালন শুরু করেন।
দিনে বাড়ির আঙ্গিনার গাছে, ঘরের চালে বিচরণ করে আর রাতে নির্দিষ্ট আবাসে থাকে পাখিগুলো। প্রয়োজনীয় খাবারও যোগান দেন তিনি। এভাবে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপন্ন অবস্থায় পড়া পাখি সংগ্রহ করে পালন করে আসছেন।
বক, কালেম, ঘুঘু, ডাহুক ও কুড়া জাতীয় পাখি রয়েছে তার সংগ্রহে।
তিনি বলেন, পাখির বাচ্চা ফুটে একটু বড় হলেই তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়।
মনের আনন্দ থেকেই পাখি সংরক্ষণে এই চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
“নিজ খরচে পালন করে ১২ বছরে প্রজনন হওয়া ৮০০ এরও বেশি পাখি বনে ও জলে ছেড়েছি।”
তার ছেলে গাজী খান বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি পাখিগুলোর খাবার দেওয়াসহ বিভিন্ন পরিচর্চা করি।
সাউদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল মিয়া বলেন, প্রতিদিনই নেত্রকোণা, ময়মনসিমংহ, কিশোরগঞ্জ থেকে লোকজন আসে পাখি দেখতে।
নেত্রকোণা জেলা প্রকৃতি বাঁচাও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক পলাশ বলেন, “মিস্টারের এই উদ্যোগ অনুকরণীয়। তার এই কাজে বিপন্ন প্রজাতির পাখি যেমন বাঁচবে তেমনি পরিবেশও বাঁচবে।”