অবশ্য হাইকোর্টের এই রায়ের পর বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন কোনো কর্মসূচি এখনও দেওয়া হয়নি।
আগের দিন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন এবং ১ নভেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশনে অনশনের যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল, আপাতত সেটাই থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জজ আদালত গত ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও দুদকের রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে হাই কোর্ট মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই রায় প্রদান করা হয়েছে। আমরা এই রায়কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করছি। জনগণই বিচার করবে ভবিষ্যতে যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায় কী হওয়া উচিৎ ছিল।”
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, সরকার যে বিরোধীদলকে ‘নির্মূল করতে আদালতকে ব্যবহার’ করছে- এই রায়ে তা স্পষ্ট হয়েছে।
“যে মামলায় আজ দেশনেত্রীকে এই সাজা দেয়া হল, সেই মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা কখনোই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা নেই। নিম্ন আদালতেই এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, আমাদের আইনজীবীরা বার বার বলেছে। সেই মামলায় আজ উচ্চ আদালতে সাজা বাড়ানো হল।”
ফখরুলের দাবি, সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ‘নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়’ বলেই আদালতে এমন রায় এসছে।
“আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাও এখানে কাজ করছে। যে কারণে চরমভাবে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে এ ধরনের সাজা প্রদান করা হচ্ছে।”
ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে সংলাপের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, তার ওপর এই রায়ের কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ থেকেই বোঝা যাবে, এই সংলাপ কতটুকু আন্তরিক এবং এই সংলাপ কতটুকু ফলোপ্রসূ হবে। জনমনে যে জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন, সেটা অবশ্যই আসবে।”
সংলাপে যাবেন কিনা- এ প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সেটা এখনই বলতে পারছি না। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪ ডটকম