শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

রায় আমরা কার্যকর করবই, ইনশাআল্লাহ্ : আইনমন্ত্রী

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় পলাতক আসামিরা যেখানেই থাকুক তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। শুক্রবার (০২নভেম্বর) রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন।

জেলহত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ালেও তাদের দেশে ফেরত আনা যাচ্ছে না। জেল হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের  প্রায় পাঁচ বছর হতে চলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্তদের সাজা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।

কেন জেলহত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্তদের রায় কার্যকর হচ্ছে না প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রায় কার্ষকর করা হচ্ছে না এটার সঙ্গে আমি একমত না। কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা আর জেল হত্যা মামলা এ দুটো মামলার আসামি যারা তারা একই। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় আগে হয়ে যাওয়াতে তাদের সেই পাঁচজন খুনির দণ্ডাদেশ আমরা কার্যকর করেছি। তার মধ্যে দিয়ে জেল হত্যা মামলার আসামিরও দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে।’ ‘দ্বিতীয়ত এখনও যাদেরকে পাওয়া যায়নি তাদেরকে আমরা শুধু খুঁজছি না, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই তাদেরকে এনে এই রায় আমরা কার্যকর করবই, ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর খুনীরাই খন্দকার মোস্তাকের নির্দেশ লাভ করে জেলখানায় ঢুকে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন মোস্তাক দেশের রাষ্ট্রপতি, জিয়াউর রহমান প্রধান সেনাপতি। বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরো একটি কলঙ্ক তিলক লেগে গিয়েছিলো জেল হত্যার ভেতর দিয়ে। জেল খানা হচ্ছে সরকার দ্বারা রক্ষিত সর্বাধিক নিরাপদ জায়গা। সেই তথাকথিত সরকার প্রধানই নির্দেশ দিয়েছিলেন খুনী ও মদ্যপ মোসলেম উদ্দীনকে জেল খানায় ঢোকার। তারপর চারনেতাকে এক জায়গায় জড়ো করে একসঙ্গে ব্রাশ ফায়ার করে মোসলেম উদ্দীন।

জানা গেছে, তাজউদ্দীন আহমেদ পানি পানি বলে চীৎকার করছিলেন। দ্বিতীয়বার গুলি করে তারপর বেয়নেট তাঁর বুকে আমূল বিদ্ধ করে, তাঁর পানির পিপাসা মিটিয়ে দেয়া হয়। জানা গেছে, এএইচএম কামারুজ্জামান জেল খানায় বসে পবিত্র কোরআন তেলোয়াৎ করছিলেন। তাঁর বুকের রক্তে পবিত্র কোরআন ভিজে গিয়েছিলো। এমন ঘটনাও ঘটলো এই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন চার জন নেতাকে জেল খানার মতো নিরাপদ জায়গায় হত্যা করা হলো। তাজউদ্দীন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।

তাঁর বিচক্ষণতা সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুজিব নগর সরকার কে রক্ষা করেছে। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী। স্বাধীন দেশে তিনি প্রথম বাজেট পেশ করেছিলেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন, আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, মুজিব নগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী, পরে উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। মনসুর আলী ছিলেন, মুজিব নগর সরকারের অর্থমন্ত্রী, সদ্য স্বাধীন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। এএইচএম কামারুজ্জামানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিশাল। মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। সদ্য স্বাধীন দেশের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হয়েছিলেন। অত্যাশ্চর্য হওয়ার মতো ব্যাপার যে, তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি রাজনীতি থেকেই অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তারপরও তাঁকে হত্যা করা হলো।

এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুনীরা এবং তাদের শেল্টার দাতারা ইসলামের দোহাই পেড়েছে, অপপ্রচার করেছে, জাতীয় ৪ নেতা নাকি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন। মূলত এই হত্যার লক্ষ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ধ্বংস করা। খুনীদের প্রশ্রয় দাতা খোন্দকার মোস্তাক ও তার প্রধান সেনাপতি জানতেন, এই ৪ নেতা বেঁচে থাকলে দেশে আন্দোলন হবে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। তাঁরা বেঁচে থাকলে আওয়ামী লীগের ২১ বছর লাগতো না ক্ষমতায় আসতে। আর এ কারণেই তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। জেল হত্যার বিচার হয়েছে, বিচার করেছেন জাতীয় ৪ নেতার উত্তরসুরি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর। জাতীয় ৪ নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, একপ্রাণ একাত্মা।

৪ নেতার রক্ত বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। জেলখানায় নিহত ৪ নেতা শুধু একটি দলেরই নয়, একটি জাতিরও গৌরব ছিলেন। জাতীয় ৪ নেতাকে জেলখানায় হত্যা করে আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিলো। এই হত্যার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতি জায়েজ করা হয়েছিলো। খুনীদের পক্ষে আইন পাস করা হয়েছিলো।

জেলহত্যা মামলা
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল জেলহত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। মামলার ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে সাজা দেওয়া হয় ও পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন জন হলো—রিসালদার মোসলেহ উদ্দীন, মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধা। মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন জনই বর্তমানে পলাতক। আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১২ জন হলেন, আহমেদ শরফুল হোসেন, হাশেম কিসমত, নাজমূল হোসেন আনসার, খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনের বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বাকি আটজনের মধ্যে আব্দুল মাজেদ ও হাশেম কিসমতের মৃত্যুর খবর শোনা গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১