বিশেষ প্রতিবেদন :
সমাজে প্রত্যেক মানুষের উচিৎ নীতিহীন লোকের সান্নিধ্য পরিত্যাগ করা। একটি সমাজে বহু মতের, বহু পথের মানুষ বসবাস করে বা বিচরণ করে। এর মধ্যে কে আমার বন্ধু হবে? তা নির্বাচন করা প্রয়োজন। নির্বাচন অর্থ বেছে নেওয়া। বাছাই করার ক্ষেত্রে ভুল করলে একদিন নিজেকেই প্রস্তাতে হয়। কারণ, কথায় আছে সৎ সঙ্গে সর্গ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। সমাজে কেউ একা বাস করতে পারেনা। মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়।
একটি সমাজে সবাই ন্যায় নীতিবান মানুষ হয়না। আবার সবাই খারাপও হয়না। প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা চিন্তা চেতনা থাকতে পারে, কিন্তু সবারই নীতি থাকা উচিৎ। প্রত্যেক সমাজে কিছু দুষ্ট চরিত্রের লোক থাকে। এরা সমাজের ভালো লোকগুলোকে বিপথে ঠেলে দেয়। একজন বদ লোকই যথেষ্ট, সমাজের অনেকগুলো লোককে খারাপ পথে ধাবিত করতে। এসব খারাপ লোকগুলোকে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন কাজ। একদিনে একজনকে খারাপ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়না। এরজন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তবে কাউকে কাউকে চিহ্নিত করতে খুব বেশি সময় লাগেনা। এরা তাদের কাজের ক্ষেত্রে এমনিতেই খারাপ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যায়।
আমরা যারা সংবাদ কর্মী। আমাদেরকে মানুষ একটু ভিন্নভাবে দেখে থাকে। বিশেষ করে সমাজের এলিট পার্সন মানুষগুলো মনে করেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন বা আয়না। একজন সাংবাদিকের মধ্যে পুরো সমাজকে দেখা যায় আয়নার মত। তিনি যত নগণ্য বা ছোট পরিসরের সাংবাদিকই হননা কেন? তাকে তাঁর কাজের নৈপন্যতা দেখাতে হবে। দেখাতে হবে আমি এই সমাজে আলাদা বৈশিষ্ট্যের একজন। তা না হলে, অন্যদের থেকে আমাকে আলাদাভাবে মানুষ দেখবে কেন?
অথচ, আমরা বেমালুম ভুলে যাই, আমি একজন সংবাদ কর্মী। সাময়িক ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য আমাদের মধ্যে কেউ কেউ চরিত্র এবং নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা নয়। আমাকে ভাবতে হবে এবং চৈতন্য থাকতে হবে আমি সমাজের আয়না।
এই সমাজে কে কী করেন, কার কী কাজ। কার উদ্দেশ্য কী বা মতলব কী? তা সঠিকভাবে নিরুপন করাই আমার কাজ। সমাজে বসবাসকারী বা আমার কমিউনিটিতে বসবাস করে এমন মানুষদের মধ্যে কার কোন চরিত্র তা নির্বাচন করতে হবে। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। কারো স্বার্থবাদী চরিত্রের সাথে আমার নীতি আদর্শ একাকার করে দিতে পারিনা।
আমি যে সমাজে বাস করি, এই সমাজে সব শ্রেণি পেশার মানুষ বসবাস করতে পারে। আবার এমন মানুষও বসবাস করে-যারা চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারি, চোরা কারবারি। তাহলে এদেরকে চিহ্নিত করে আমাকে আমার দায়িত্ববোধ থেকে এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। তা না হলে পুরো সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
প্রথমত, আমার অবস্থান নির্ণয় করতে হবে আমি অন্যদের থেকে আলাদা। আমার আলাদা অবস্থান যদি নির্ণয় না করে অন্যদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে চলি। তা হলে আমার মধ্যে আর আমিত্ব থাকেনা। সমাজের প্রত্যেক মানুষের টাকার প্রয়োজন আছে। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা, যার টাকার প্রয়োজন নেই। যার শত কোটি টাকা আছে তিনিও আরো টাকা চান। তবে টাকা উপার্জনের বহু মাধ্যম আছে। বৈধ পথে যারা আয় করেন, তারাও টাকার মালিক। আবার যারা অবৈধ পথে বা মাদক কারবারি করে টাকা আয় করেন, তারাও টাকার মালিক। তবে দুই পথে আয় করা এই টাকার মধ্যে লেখা নেই কোনটা সাদা, কোনটা কালো। সাদা আর কালোর নির্ণয় আপনার আমার মনের চোখ দিয়ে করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের একটি মনের চোখ থাকে। এই মনের চোখ দিয়ে পুরো সমাজের ভালো-মন্দ বা সঙ্গতি অসঙ্গতি দেখা যায়। এই দেখার মাধ্যমে আমাকে বেছে নিতে হবে আমি কার সাথে চলবো। চলার জন্য সঠিক মানুষ নির্ণয় একটি কঠিন বিষয়। এখানে স্বার্থবাদী চরিত্রের কোন স্থান নেই।
নিজের বলয় বা অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমি কখনও খারাপ প্রকৃতির মানুষগুলোকে আমার পিছনে বা ডানে বামে স্থান দিতে পারিনা। এরা সাময়িক সময়ের জন্য আমার পাশে থেকে আমার সকল কাজে সমর্থন দিলেও একদিন এদের সমর্থনই আমাকে ডুবিয়ে চুবিয়ে মারবে। কারণ, কথায় আছে দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যার্জ। অতএব, আসুন আমরা অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করি।
মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক
ahossain640@gmail.com