আকাশবার্তা ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বানের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই। জানুয়ারি মাসে অনেক কাজ থাকে কমিশনের। এছাড়া উপনির্বাচন, এজতেমা। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।তারিখ পেছানোর আর সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৫নভেম্বর) বিকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটকদের সব সময় আমরা স্বাগত জানাই। আমরা গত ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণা করি। সে অনুযায়ী আজই জানানোর শেষ তারিখ।
ইসি সচিব আরও বলেন, কোনো কোনো দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবেন, নাকি স্ব-স্ব প্রতীকে নির্বাচন করবেন তা জানালে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কথা বলেছে।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, জানুয়ারিতে অনেক বিষয় আছে। রিইলেকশন করতে গেজেটের ব্যাপার আছে, বিশ্ব ইজতেমার ব্যাপার আছে, সব কিছু মিলিয়ে জানুয়ারিতে করা হলে নির্বাচনটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে কমিশন বসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানাবে।
আজ হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের দাবি কমিশন চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। তাদের নির্বাচন পেছানোর দাবি যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত নয় বলে কমিশন মনে করে। কাজেই নির্বাচন পেছানোর আর সুযোগ নেই। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩০ ডিসেম্বরই ভোট হবে।’
নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন না পেছানোর কারণ উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘জানুয়ারিতে ভোটের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় রয়েছে।’
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোথাও পুনর্নির্বাচন, অনিয়ম হলে তা তদন্ত, গেজেট প্রকাশের বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ৩০-৪০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবেন। কমিশন এসব বিশ্লেষণ করেছে।
ঐক্যফ্রন্টের ইভিএম না দেওয়া ও সেনা মোতায়েনের দাবির প্রসঙ্গে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘শহরাঞ্চলে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে কমিশনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে কীভাবে, কবে মোতায়েন হবে, তা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলাপ করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
ভোটের দুই–তিন দিন আগে মাঠে সেনাবহিনী থাকবে বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া ইসি সচিবের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমি বিষয়টি ওইভাবে বলিনি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে আমি বলেছি, নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন হলে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থার করতে। আমি থাকার বিষয়ে বলেছি। মোতায়েন হওয়া না হওয়ার বিষয়ে বলিনি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দল ধানের শীষে নির্বাচন করতে চায়, তা বিএনপি এবং কোনো কোনো দল নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়, তা আওয়ামী লীগ লিখিতভাবে জানিয়েছে।’
হেলালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, ‘জোটভুক্ত কোনও দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে নিবন্ধিত দলগুলোই সুযোগ পাবে। যারা নিবন্ধিত নয়, তারা এই সুযোগ পাবে না। তবে, অনিবন্ধিত দলের কেউ অন্য কোনও দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে চাইলে সেই দলের মনোনয়ন নিতে হবে।’
হেলালুদ্দীন আহমদ আরও জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) জোটবদ্ধ নির্বাচন বিষয়ে কমিশনকে তথ্য দেওয়ার শেষ দিন। আজকের মধ্যে যেসব দল কমিশনকে তথ্য দেবে, সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেসব দলের তালিকা দিয়েছে, সেখানে বিকল্পধারার নাম নেই।’