আকাশবার্তা ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। এ নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল। মনোনয়ন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে দলগুলোর রাজনীতি। আওয়ামী লীগ টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের অনেক নেতাকর্মী এখন প্রার্থী হতে নিজ আসনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন।
এ কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে দলটিতে। টানা তৃতীয় বার ক্ষমতা ধরে রাখতে গলার কাঁটা হতে পারে এ বিদ্রোহীরাই। বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের শাস্তি না দেয়ায় আগামীতেও দলীয় মনোনয়ন না পেলে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। কোনো আসনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সে ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতাসীনদের ঘর সামলানো কঠিন হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু একাদশ নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছে জেলা নেতারা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
তথ্যমতে, বিগত সময়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, জেলা-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তখন অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের হিসাবে বহিষ্কারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। শাস্তি হয়নি অনেক বিদ্রোহী নেতার। দেশের চলমান উন্নয়ন ধরে রাখতে আবার ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী চায় না ক্ষমতাসীন দলটি। এ জন্য গত বুধবার দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলেন। সেখানে ৪ হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তৃণমূল যে নেতৃত্বশূন্যতায় ভুগছে তা এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
যেসব আসনে মনোনয়নপত্র বেশি কেনা হয়েছে সেখানে নেতৃত্বশূন্যতা রয়েছে। সেখানে যত বড় নেতাই হোক না কেন, তারা পার্টিকে অর্গানাইজ করতে পারে নাই। এটা তাদের নেতৃত্বশূন্যতার প্রমাণ। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দলীয়প্রধানের এমন বক্তব্যের পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছেন দলের সব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে। দলীয়প্রধানের সাথে তারাও এবার বিদ্রোহী দেখতে চায় না।
গাইবান্ধা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ শামসুল আলম হিরু বলেন, একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দলের সকল নেতাকর্মীকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করি এবার কোনো নেতাকর্মী শেখ হাসিনার কথা বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হবে না। সে জন্য আমার জেলার সকল নেতাকর্মী একসাথে কাজ করছি। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বর্তমানে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো। সময় না এলে কোনো কিছু বলা যাবে না। আশাকরি এবার কেউ বিদ্রোহী হবে না।
এখন আমরা শুধু নৌকার জয় নিয়ে ভাবছি।জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ বলেন, গত নির্বাচনের চেয়ে এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। দেশের উন্নয়ন ধারা ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার বাইরে গিয়ে বিদ্রোহ করা যাবে না। আর সেটা করার কোনো সুযোগ নাই। সকল নেতাকর্মী এবার নেত্রীর কথার বাইরে যাবে না। আর যদি কোনো নেতাকর্মী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক উন্নয়ন করছে। গত নির্বাচনগুলোর চেয়ে আমাদের দল অনেক শক্তিশালী। আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করছি। এবার একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন। কিন্তু এবার কোনো মনোনয়প্রত্যাশী দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করবে না। কারণ আমরা সবাই চাই শেখ হাসিনা নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করুক। সেই জন্য আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ