গণফোরাম পাবে ৮-১০টি আসন : গণফোরামকে আপাতত ৮টি আসন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আরও দু-একটি পাওয়ার দরকষাকষি চলছে। তবে এ আসনগুলো ছাড়া আরও কয়েকটি আসন পাবেন যারা ড. কামাল হোসেনের প্রিয়জন। এ গুলোর ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে হবে। মতিঝিল চেম্বার এবং গুলশানে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে যে আসনগুলো ছাড়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয় ঢাকা-৭ আসনে মোস্তফা মহসিন মন্টু, ঢাকা-৬ এ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে শাহ রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২), মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমীনের (কুড়িগ্রাম-২), জানে আলম (চট্টগ্রাম-১০), মফিজুল ইসলাম খান কামাল (মানিকগঞ্জ-৩) মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-২ বা ঢাকা-৩ আসনে নির্বাচন করতে ইচ্ছে পোষণ করেন বলে জানা গেছে। নাগরিক ঐক্যর ৪টি আসন : নাগরিক ঐক্য যতগুলো আসন চেয়েছে আর যা পেয়েছে তাতে মন ভরেনি মাহমুদুর রহমান মান্নার। তাকে আপাতত চারটি আসন দিতে রাজি হয়েছে বিএনপি। বগুড়া-২ আসনে ছাড়ের ইঙ্গিতের পর এখন মান্নার আরও আবদার ঢাকার দুটি আসনেও। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এসএম আকরাম হোসেন এবং জামালপুর-৩ আসনে নঈম জাহাঙ্গীর।
জেএসডি পাবে ৩টি আসন : আসম আবদুর রব যে স্বপ্ন নিয়ে বিএনপির সংসারে এসেছেন শেষ অঙ্কে এসে তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। তার আবদার লিস্ট দীর্ঘ হলেও ভাগ্য জুটছে মাত্র তিনটি আসন। এর মধ্যে তিনি ( আসম আবদুর রব) পাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসন, তার স্ত্রী তানিয়া রব পাচ্ছেন ঢাকা-১৮ এবং আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪)। কাদের সিদ্দিকীর ২টি আসন : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে আপাতত দুটি আসন দিতেই বিএনপি নরম হয়েছে। টাঙ্গাইল-৪ এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনের যে কোনো একটি তিনি পাবেন। যদিও ঢাকার ১৩ আসনও তার চাওয়া বলে জানা গেছে। এছাড়া তার দলের ইকবাল সিদ্দিকী গাজীপুর-৩ আসনে পাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর নাম শোনা গেলেও শেষ বিবেচনায় বিএনপির পছন্দে তার নাম পাওয়া যায়নি।
২০ দল পাচ্ছে ৪০-৪৫টি আসন : ৪০-৪৫ আসনে ২০ দলকে সন্তুষ্ট রাখতে চায় বিএনপি। এর মধ্যে রয়েছে এলডিপির চারটি আসন, তা হলো এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১) ও আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-২)। এ ছাড়াও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (চট্টগ্রাম-৫),বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান (নীলফামারী-১), বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-১, জমিয়তে ওলামায়ের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস (যশোর-৫), জমিয়তে ওলামায়ের শাহীনুর পাশা চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-৩), খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল (যশোর-৪),এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২), জাপা (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআই ফজলে রাব্বী (গাইবান্ধা-৩), দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের (পিরোজপুর-১)। তবে ২০ দলের জোট ১৮ দল সবাই মিলে যা পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী একাই তার চেয়ে বেশি আসন পাচ্ছে।
২৪-২৫টি আসন পাচ্ছে জামায়াত : জামায়াতের অর্ধশত আসন চাহিদার আবদারে ২৪-২৫ আসন ছাড় পাচ্ছে। তবে জামায়াত কি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে নাকি স্বতন্ত্র করবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে জানা যাবে। তবে একটি সূত্রের মত, জামায়াত স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে এ আসনগুলোতে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না।
এখন পর্যন্ত জামায়াতকে বিএনপি যে আসনগুলোতে সবুজ সংকেত দিয়েছে বলে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মাওলানা আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-৪ নূর আলম মুকুল, গাইবান্ধা-১ অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ ডা. আবদুর রহীম সরকার, বগুড়া-৪ মাওলানা তায়েব আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-১ আবদুল বাসেত, পাবনা-৫ ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আবদুল আলীম, খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-২ শামীম সাঈদী, সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আনম শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ।
কাঁদলেন ফখরুল : একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার সময় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তরের আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।এসময় ফখরুল বলেন, ‘আজকে যখন আমি আপনাদের সামনে এসেছি, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে… এই প্রথম আমরা একটা নির্বাচনে অংশ নিতে চলেছি আমাদের চেয়ারপারসনকে ছাড়া।’ কান্না চাপতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এবং পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মোছেন।
পরে বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে। সরকারের প্রচ- প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কলাকৌশলে তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র তার প্রতিনিধিদের কাছে তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করছি।’ মির্জা ফখরুল বলেন, কেবল খালেদা জিয়া নন, বিএনপি ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে, তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দেশে এখন সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নেই। প্রশ্ন আসবে- তারপরও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি কেন? নির্বাচনে যাচ্ছি দুটি কারণে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি আন্দোলন সৃষ্টি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত আনতে চাই।
যোগ দিয়েই বিএনপির প্রার্থী রনি! ভোটের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়েই পটুয়াখালী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এসে গতকাল তিনি বিএনপিতে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। এর পরই তার হাতে দলীয় মনোনয়নের চিঠি তুলে দেয়া হয়। বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে রনি বলেন, ‘আমি জেনে বুঝে সজ্ঞানে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিলাম। আমি যতদিন বেঁচে থাকি, দেশ ও জনগণের সেবা করতে চাই। আমৃত্যু এই দলেই থাকব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের ইচ্ছা থাকে সংসদে আসার। আমি যদি বলি নমিনেশন পাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই, তাহলে সেটি ভুল হবে। আবার যদি বলি শুধু নমিনেশন নেয়ার জন্য এসেছি, তাহলেও ভুল বলা হবে। আমি আজীবন বিএনপিতেই থাকতে চাই। গোলাম মাওলা রনি নবম জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়ায় দশম জাতীয় সংসদে মনোনয়ন পাননি রনি। এবার একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন। কিন্তু এবারো তিনি মনোনয়ন পাননি। নৌকার টিকিট না পেয়ে এবার পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এ সংসদ সদস্য।
গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে তিনি জানান, ‘বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান।’ এদিন দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন গোলাম মওলা রনি। তিনি লিখেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামব। দেখা হবে সবার সঙ্গে এবং দেখা হবে বিজয়ে।’
এদিকে, গোলাম মাওলা রনির যোগদানের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। জাতি দুঃসময় পার করছে। এই ক্রান্তিলগ্নে গোলাম মাওলা রনির মতো মেধাবী, সৎ, প্রজ্ঞাবান তরুণকে পেয়ে আমরা উদ্বেলিত, আনন্দিত। লন্ডন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।