আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগামী ৩০ সে ডিসেম্বর দেশে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জোটের চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে দলটির কোন্দোল আরও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রেখে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হ্যাটট্রিক জয় করাতে ডিসেম্বর মাসকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখছে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। সেই জন্য দলীয় সকল কর্মকা- ধারাবাহিকতার সাথে পরিচালনা করার পাশাপাশি আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে তারা। একইসঙ্গে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সব ধরনের মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব নিরসন করে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নামাতে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিানসহ দলের নীতিনির্ধারণীরা।
আ.লীগ সূত্রে, একাদশ নির্বাচনে কে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কাজ শেষ করেছেন। আর দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের দলে মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দোল ও দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এ নির্বাচনে ২৬৪ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু করার আগেই এসব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কোন্দোল নিরসনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দোল মেটানোর জন্য দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত সকল নেতাকর্মীদের এক কাতারে আনা হয়েছে।
এরা হলেন, দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক ও আফম বাহাউদ্দিন নাছিমকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু একত্রে আনা হয়নি। তাদের সবাইকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের সবাইকে গণভবনে ডেকে নিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় তিনি সকল নেতাকর্মীকে নির্বাচনি মাঠে সাংগঠনিক কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে নিয়মিত ধানমন্ডি কার্যালয়ে বসে সারা দেশ মনিটরিং করার দায়িত্বের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সবাইকে একসাথে মাঠে নামতে হবে।
এ বিষয়ে গত শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দলীয় মনোনয়ন পায় তারা নির্বাচনি প্রচারণার জন্য এলাকায় চলে যায়। তাই আমরা একটি টং কমিটি করেছি যারা অফিসে বসে দেশের সকল আসনে মনিটরিং করবে। তারা সবাই দলের হয়ে কাজ করবে। কাদের আরও বলেন, আমিও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার জন্য বাইরে থাকব। আবার আমার নির্বাচনি এলাকাতে যেতে হবে। হয়ত আমি মাঝে মাঝে দলীয় কার্যালয়ে আসতে পারব। কিন্তু এখানে সকল কার্যক্রম করবে আমাদের এই কমিটি।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর বলেন, ডিসেম্বর মাস বাঙালি জাতির বিজয়ের মাস। এই মাস আমাদের আনন্দের মাস। আর এই মাসের ৩০ তারিখে দেশের সকল জনগণ শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশে আরেকটি বিজয় অর্জন করবে। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হ্যাটট্রিক উপহার দিতে প্রস্তুত আছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। তাই বাংলাদেশের সকল জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাথে আছে এবং সবাই তাকে ভোট দিয়ে হ্যাটট্রিক করিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।
তিনি বলেন, একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সারাদেশে ছোট ছোট কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা ঠিক করা আমাদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এসব সমস্যা থেকে বের হতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি। আশা করি সবাই শেখ হাসিনার জন্য মাঠে কাজ করবে এবং জয় নিশ্চিত করবে।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ