আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজনৈতিক সংলাপে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। ইসির সঙ্গে সংলাপেও এ আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।
বুধবার (০৫ডিসেম্বর) বিকালে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হয়রানির বাণিজ্য এখনো চলছে।বাম্পার ফলন যেভাবে হয়, সেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ও গ্রেফতারের বাম্পার ফলন চলছে। সর্বশেষ একজন মহিলা কমিশনার ও কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল কোম্পানীগঞ্জে মওদুদ আহমেদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করেছি এবং গ্রেপ্তার বাণিজ্য বন্ধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছি।
তিনি বলেন, যাদের প্রার্থিতা প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল হয়েছে, তাদের আপিল কার্যক্রম আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে বলেছি ৮ তারিখ পর্যন্ত না নিয়ে দু’দিনের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করা যায় কিনা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। ৮ তারিখ বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত শুনানি হলে প্রার্থীদের প্রস্তুতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমরা যদি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাশীল থাকতাম তাহলে বারবার নির্বাচন কমিশনে আসতে হতো না। যেহেতু আমাদের কোন জায়গা নেই। এবারই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল না। ফলে পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের কোন জায়গা নেই।
প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে জিজ্ঞাসা
প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে ইসির কাছে কিছু বিষয় স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আরপিও’র ১৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে একটি আসনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দুই বা ততোধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য কোনো নিদিষ্ট ফরম আছে কি-না এবং ফরম না থাকলে দলের প্যাডে পত্র আকারে প্রদান বৈধ বা গ্রহণযোগ্য হবে কি-না সে বিষয়টি জানতে চেয়েছে দলটি।
আরপিও’র ২০ (১) অনুচ্ছেদের শর্তাংশে বর্ণিত মতে, দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একক প্রতীক বরাদ্দের চিঠির কোনো নির্দিষ্ট ছক আছে কি-না? না থাকলে প্রতীক বরাদ্দের পত্র কমিশনে নাকি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে দিতে সে বিষয়টিও জানতে চেয়েছে বিএনপি। কোনো কোনো আসনে দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একাধিক বৈধ প্রার্থী রয়েছে। দলগুলো যৌথভাবে একক প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যথাসময়ে কমিশনে পত্র দিয়েছে। এক্ষেত্রে আরপিও’র ২০ (১) অনুচ্ছেদের বিধান মতে যে কোনো একজন বৈধ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের পত্র দিলে জোটভুক্ত অন্য দল সমূহের বৈধ প্রার্থীর প্রার্থীতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কিনা অথবা জোটভুক্ত দলসমূহের যে কোনো একজন বৈধ প্রার্থীকে জোটের প্রধান দল হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর জোটভুক্ত অন্যান্য দলের বৈধ প্রার্থীকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে হবে কি-না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও ৩ দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ
মোট ১১টি দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিষয় নির্বাচনকে অবহিত করেছে বিএনপি। বিএনপি ছাড়াও অন্য দলগুলো হচ্ছে- গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।