বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্রোহী শঙ্কামুক্ত আওয়ামী লীগ

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মতই ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিদ্রোহ ঠেকাতে ঘরের মাঠে কৌশলী হয়ে কাজ করছে ক্ষমতাসীন দলটি। টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকা দলটির মনোনয়ন ও শরিক দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়।

দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের অনেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়। আবার কোথাও কোথাও দলীয় নেতাকর্মীর ওপর আক্রমণাত্মক ব্যবহারের কারণে দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন বর্তমান এমপিরা। দেশের প্রায় প্রতিটি আসনে একই সমস্যা তৈরি হয় ক্ষমতাসীন দলটির মধ্যে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নৌকার জয়ই শেষ লক্ষ্য মানছে দলটির মনোনয়নবঞ্চিত এমপিসহ নেতাকর্মীরা। তাই সকল মনোনয়নবঞ্চিতরা দলীয় জয় নিশ্চিত করতে বিশেষ সভা ডেকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন তারা।

শুধু তৃণমূল আওয়ামী লীগ নয়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহ ঠেকাতে কেন্দ্র থেকে বিশেষ কৌশলে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। দলীয় এবং জোট আসনগুলোর ওপর বৃদ্ধি করা হয়েছে আলাদা নজরদারি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি কমিটিও গঠন করেছে দলটি। এ কমিটি দলীয় কার্যালয়ে বসে দেশের প্রতিটি আসনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো প্রার্থী বিদ্রোহ করলে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করবে। তাই শেষ মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দলটি অনেকটাই বিদ্রোহীমুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছে কমিটির নেতারা।

আ.লীগ সূত্রে, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণসহ সকল কার্যক্রম শেষ করেছেন। এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ঘটে উল্টে ঘটনা। ৩শ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ২৩টি। একটি আসনে ৫২টি মনোনয়ন ফরম কেনার মতো রেকর্ডও হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। দলীয় মনোনয়ন বিক্রি থেকেই নানা বৈরিতার সৃষ্টি হয় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী নেতাদের মাঝে। বিরোধী দলের চেয়ে নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে হিমশিম খেতে হবে ক্ষমতাসীনদের। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে চিত্রটি পাল্টাতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দলটির মাঝে।

ঘটছে উল্টো ঘটনা। অনৈক্য, বিভেদ ও বিদ্রোহের শঙ্কাকে অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দলটি। বেশিরভাগ আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীকে এককাতারে নিয়ে আসছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া চূড়ান্ত তালিকার প্রতি সম্মান রেখেই মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন মনোনয়নবঞ্চিতরা। অন্যদিকে কিছু কিছু আসনে মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও গত রোববার যাচাই-বাছাই শেষে অনেকেই বাদ পড়েছেন। আর তাতেই স্বস্তি ফিরেছে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীর মধ্যে। এ ছাড়া যেসব আসনে ছোটোখাটো সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিরসন করতে কাজ শুরু করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ৩০০ আসনের সব প্রার্থীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন তারা। কেন্দ্র থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তৃণমূল নেতা-এমপিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে ডেকে এনে নেয়া হচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। এবং তাদের সাথে কথা বলছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্যমতে, দেশের প্রতিটি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন কিংবা যেসব আসনে এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের দূরত্ব ছিল তারা এখন এককাতারে আসতে শুরু করেছেন। একইভাবে বিদ্রোহী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য কৌশলে এগোচ্ছে দলটি। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। মতিউর সুনামগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। মতিউর রহমান নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন। একইভাবে মেহেরপুর-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনও মনোনয়ন প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন। ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, কেন্দ্রের ফোন পাওয়া সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান, পিরোজপুরে এ কে এম আউয়ালসহ প্রায় ৩০ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

পরে তারা গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তারা দলীয় সভানেত্রীকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে অবহিত করেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের আমরা বুঝিয়েছি। তারা অনেকে আমাদের কথা দিয়েছে আবার অনেকে আস্বস্ত করেছে। আশা করি সবাই দলের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সবাই শেখ হাসিনাকে জয় উপহার দিয়ে তৃতীয় বার সরকার গঠনে সহায়তা করব।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১