টেক বার্তা ডেস্ক :
রাদেশে ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে দাম পুনঃনির্ধারণের কাজ শুরু করেছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট মূল্য থাকবে। গ্রাহক এবং ব্যবসায়ী কোনো পক্ষই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকটিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম যাতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পায় সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিটিআরসি সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আমরা গত জানুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে একজন কনসালট্যান্টের জন্য আবেদন করেছি। কনসালট্যান্টের কার্যক্রম শেষে পরবর্তীতে কস্ট মডেলিংয়ের মাধ্যমে ডাটা ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাজারে বর্তমানে ইন্টারনেটের যে দাম রয়েছে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এই বিষয়টি চিন্তা করে নতুন দাম নির্ধারণ হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট একটি মূল্য থাকবে। যার মধ্যে থেকেই গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের চলতে হবে। দেশের সব প্রান্তে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
চলতি মাসেই প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
তিনি বলেন, উদ্বোধনের পর এই ক্যাবলের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া শুরু হবে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিকল্প পথ তৈরি হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কম মূল্যেই পাবেন ইন্টারনেট সেবা।
তারানা হালিম আরো জানান, দুর্যোগকালে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে কোনো সমস্যা হলে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ইন্টারনেট সেবা পাবেন গ্রাহকরা।
চাহিদার অতিরিক্ত মালয়েশিয়া, ভুটান, মিয়ানমার ও ভারতের সেভেন সিস্টার এবং আসাম ব্যান্ডউইডথ নিতে চায় জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আসা অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ আমরা রফতানি করতে পারবো।
বিএসসিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ার হোসেন জানান, বিএসসিসিএসের সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেসিস) ট্রান্সমিশন লিংকের কাজ শেষ করেছে।দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইডথের নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় ইন্টারনেটের দাম আরও কমে আসবে।
নতুন এই সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর হবে জানিয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদ আর মাত্র ১০ বছর আছে। সেজন্য দ্বিতীয়টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এর মধ্যে ১২০ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে আসে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইডথ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।