আকাশবার্তা ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে থাকলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এখনো আড়ালেই রয়েছে। তিনি নির্বাচনি প্রচারণা এখানো শুরু করেননি। গত বৃহস্পতিবার মহাখালী এলাকায় গণসংযোগ করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগর প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু আমার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নেত্রীর হাত শক্তিশালী করুন। এ সময় ফারুককে দেখতে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরেও অনেক সাধারণ পথচারীদের ভিড় করতে দেখা যায়।
পথসভায় বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসিমউদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা স্লোগান বাদ দিয়ে আশপাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করুন। কারণ, আগামী পাঁচ বছরের জন্য তারাই আমাদের ক্ষমতায় বসাবে। ওয়্যারলেস গেট থেকে ফারুক পর্যায়ক্রমে টিবি গেট, স্টাফ কোয়ার্টার, সাততলা বস্তি, রসুলবাগ, দক্ষিণপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগ চালান। এ সময় তার সঙ্গে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন, গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছির উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান প্রার্থ এখনো প্রচারে নামেননি। প্রতীক পাওয়ার পর তৃতীয় দিনেও প্রচারে নামেননি ২০-দলীয় জোটের এই নেতা। কবে নাগাদ তিনি প্রচারণায় অংশ নেবেন, তাও কেউ জানেন না। কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, এমনকি নির্বাচনি অফিসও করেননি তিনি। আপাতত বারিধারায় নিজের বাসায় নির্বাচনি কর্মকা- পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপি সূত্র বলছে, এই আসনে বিএনপির যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন- তাদের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে আন্দালিভ রহমানকে প্রার্থী করার কারণে সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। আন্দালিভের মাঠপর্যায়ে কোনো অনুসারী না থাকার কারণে তিনি প্রচারে নামতে পারছেন না। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করতেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি ম্যানেজ হলেই তিনি প্রচারে নামবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, আন্দালিভ রহমান হাঁটাচলার সময় যে তার সঙ্গে দু-চারজন লোক থাকবেন, এমন কেউও নেই। সব মিলিয়ে অন্য রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন আন্দালিভ। বিএনপির আরেক নেতা বলেন, দলীয়ভাবে আমরা সহযোগিতা করব, কিন্তু তার নিজেরও কিছু লোকজন থাকা উচিত ছিল। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক নেতা বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘদিন ধরে যিনি নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন, তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এই বিবেচনায় শিল্পপতি কামাল জামানকে তারা প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন। তারপরও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তবে পুলিশের মারমুখী ভূমিকার কারণে নেতাকর্মীরা সবাই ঘরছাড়া। এ কারণে কেউ মাঠে নামছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কামাল জামান বলেন, আন্দালিভ রহমান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সূত্রে জানা গেছে, তারা আজ থেকে প্রচারণা শুরু করবেন।
সর্বশেষ ২০০৮ সালে সংসদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত আ স ম হান্নান শাহ এই আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসন ভিআইপি ও সাবেক জেনারেলের আসন হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এবারই প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটল।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত এই আসনটি উদ্ধার করতে পারে কিনা এ নিয়ে তারা সন্ধিহান। কারণ পার্থ হচ্ছে- এ আসনে একদম নতুন। তার নিজস্ব কোনো জনবল নেই। এখনো নির্বাচনি কোনো অফিসও করেনি। সব মিলিয়ে আসনটির ব্যাপারে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।