আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসেকে। তারপর থেকে দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট চলাকালীন সময়ে চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে।
শনিবার পদত্যাগপত্রে তার সই করার খবর নিশ্চিত করেন রাজাপাক্ষের দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স এর সাংসদ সেমান সেনাসিংহে। গণমাধ্যমে তার পদত্যাগপত্রে সই করার ছবি প্রকাশ করা হয়। ২৬ অক্টোবর প্রধানন্ত্রীত্ব পাওয়ার ৫১ দিনের মাথায় পদত্যাগ করলেন তিনি।
রাজাপাক্ষের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে টুইট করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহের দল দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি। দলটির সাংসদ রাজিথা সেনারত্নে জানিয়েছেন, রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন রনিল বিক্রমসিংহে। সকাল দশটায় এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সঙ্গে এ বিষয়ে বিক্রমসিংহের টেলিফোনে কথা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে রাজাপাক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কথা শুক্রবার জানিয়েছিলেন তার ছেলে। এরপই শনিবার পদত্যাগ করলেন তিনি।
শুক্রবার রাজাপাকসের ছেলে সাংসদ নমল রাজাপাকসে এক টুইটে বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে আগামীকাল (শনিবার) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। তারপর থেকেই দেশটিতে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। পার্লামেন্ট দিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশটিতে কোনো প্রধানমন্ত্রী নেই বলে ঘোষণা দেন স্পিকার। এমন অবস্থায় পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে জানুয়ারিতে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।