আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সবেমাত্র বিয়ের একমাস। নববধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার অভোর গ্রামের। যে সময় কেরোসিন ঢালার ঘটনাটি ঘটে সেসময়ে তার স্বামী কলকাতায় ছিল বলে জানা গেছে। যদিও স্বামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ থানার অভোর গ্রামের বাসিন্দা সমীর দাসের সাথে পাশের গ্রামের বাসিন্দা কণিকা দাসের ৮ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সমীর কলকাতা পুলিশে কর্মরত।
কণিকার বক্তব্য, “আমরা সহবাসও করতাম। গ্রামের বাসিন্দারা মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতা দেখে ২৫ নভেম্বর একরকম জোর করেই বিয়ে দিয়ে দেয়।” বিয়ের পরই গ্রামবাসী তাদের রেজিস্ট্রি করার জন্য বলতে থাকে। রেজিস্ট্রি এড়াতে সমীর রায়গঞ্জ থেকে কলকাতায় চলে যায়। মহিলার পরিবারের অভিযোগ, সে সমীরকে ফোন করলে সমীর তার কাছ থেকে বিয়ের যৌতুক হিসাবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এমনকী যৌতুক হিসাবে ৫ লাখ টাকা দেওয়াও হয় সমীরকে। এই টাকা নেওয়ার পর সমীরের সাথে কণিকার আর কথা বা দেখা কিছুই হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল। কণিকা শ্বশুরবাড়িতে গেলে সমীরের পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধরের পাশাপাশি গালাগালি দেয়। অভিযোগ, তাকে পুড়িয়ে মারতে গায়ে কেরোসিনের ঢেলে দেওয়া হয়। কোনওভাবে সে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে রায়গঞ্জ মহিলা থানায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অন্যদিকে, কণিকাকে মারধর করায় গুরুতর অসুস্থ সে। তাকে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হলেও তার স্বামী সমীর এখন কলকাতায়।