আকাশবার্তা ডেস্ক :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস থাকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৫ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি মো. শামসুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করেছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে এখনও কিছু বৈষম্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদাগত বৈষম্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য দুই গ্রেডের। ২০১৪ সালে এসে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে তিন গ্রেট। মূল বেতনের ব্যবধান ১২০০ টাকা এবং ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ ২০০৬ সালের আগে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতনের পার্থক্য ছিল মাত্র ১০০ টাকা।
মাসুদ বলেন, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ১১ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ১৪ গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা পান। ১৬ বছর চাকরির পর একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতনের ব্যবধান হবে ভাতাসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা। একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলেরও এক গ্রেট নিচে চাকরি শেষ করেন, যা সহকারী শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের এই বৈষম্য দূরীকরণের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে রাখা হয়েছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।