আকাশবার্তা ডেস্ক :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচন বর্জন করব না। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।
বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় নগরে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন ড. কামাল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-ঐক্যফ্রন্টের নেতা বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রমুখ।
তিনি বলেন, মানুষ আনন্দ উল্লাস করছে। আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ফাইট করেছি৷ একাত্তরে আমরা ফাইট করে বিজয়ী হয়েছি৷ বাংলার মানুষ শক্তির কাছে, অর্থের কাছে মাথানত করেনি। এই বিশ্বাস রেখে আপনারা মাঠে থাকুন।
কামাল বলেন, ধানের শীষকে মুক্তির প্রতীক। ধানের শীষে ভোট দিলে আপনারা মুক্ত হবেন। ধানের শীষ কোনো দলের প্রতীক নয়, মুক্তির প্রতীক। এর পক্ষে ভোট দিন। ধানের শীষে ভোট দেন। ভোট দিয়ে গণনা করে স্বাক্ষর করে বিজয় ছিনিয় নিয়ে আসেন। ইনশাল্লাহ। আমাদেরই বিজয় হবে। ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি বিজয় দিবস। ১৬ডিসেম্বরের মতো আরেকটি বিজয় দিবস৷
ড. কামাল বলেন, জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের পক্ষে একটি অসাধারণ সাড়া পরেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা পরিবর্তন আশা করছি৷ কোন পার্টির পক্ষে বিপক্ষে আমি যাচ্ছি না। পরিবর্তনের পক্ষে যদি থাকেন তাহলে উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে৷
কামাল বলেন, অজস্র বাধা-বিপত্তি, হামলা, মামলা, অগ্নিসংযোগ, গুলি, বোমাবাজি, প্রশাসনের পক্ষতাতিত্বতমূলক আচরণ, নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রীয়তা, পুলিশের দলীয় ক্যাডারের মতো বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের উপর অব্যাহত অন্যায় আচরণ, গায়েবি মামলা, বাড়িবাড়ি গিয়ে হুমকি-ধামকি, পাইকারি হারে ধরপাকড়-গণগ্রেপ্তার সত্ত্বেও সারাদেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশবাসী দীর্ঘ ১০ বৎসর পর আগামী ৩০ ডিসেম্বর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে যে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন, আমি আশা করি আগামী ৩০ ডিসেম্বর এ দেশের ভোটারা তাদের সুচিন্তিত মতামত ধানের শীষের পক্ষে প্রদান করে বহু আকাঙিক্ষত পরিবর্তন সাধনে মূল্যবান অবদান রাখবেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্দারা যে স্বপ্ন দেখেছিলো, বাকস্বাধীনতা, ব্যাবসা বানিজ্য, চলাফেরা স্বাধীনতা ভোগ করা, জনগণ যেন বলতে পারে, আমরা দেশের মালিক৷ এটি যে কত বড় পাওয়া তা বলে শেষ করা যাবে না। সংবিধান ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হলো এই নির্বাচন। এই নির্বাচন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য আজকের এই নির্বাচন।
দেশের উন্নয়ন সংক্রান্ত বক্তব্যকে পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানের বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, উন্নয়নের কথা তো পাকিস্তানও বলতো। আইয়ুব খানও বলেছেন। আইয়ুব খানও উন্নয়ন বলে মুখে ফেনা উঠাতো।
তিনি বলতেন, বাঙালিরা বুঝে না। বঙ্গবন্ধু তখন বলেছেন, মানুষের যদি অধিকার না থাকে তাহলে উন্নয়নের কোনো অর্থ নয়।
পাকিস্তান আমলেও বলতো, উন্নয়ন শেষ হয়ে যাবে উন্নয়ন হবে৷ মানুষের স্বার্থে, জনগণের, তরুণদের, নারীদের স্বার্থে হবে।
কামাল বলেন, গণতন্ত্রকে খাটো করে রেখে যারা বলে উন্নয়ন আগে এটা আইয়ুব খানের কথা। ৫০ বছর আগের কথা। স্বৈরা শাসকের কথা৷ এটা বাংলাদেশের কথা হতে পারে না।
তিনি বলেন, আপনারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্দ্বিধায় আপনার মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করে দেশের স্বাধীনতা এবং আপনাদের মালিকানা নিশ্চিত করুন।