আকাশবার্তা ডেস্ক :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১০জানুয়ারি) সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী স্পিকার এ অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের পর এই প্রথম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে কোনো নারীকে দেখা যাবে না। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিদায়ী দশম সংসদ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিল জাতীয় পার্টি। এ কারণে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ আখ্যা পেতে হয়েছিল এরশাদের দলকে। এবার জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের শরিক অন্য কোনো দলের কেউ আওয়ামী লীগের সরকারে জায়গা পায়নি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান, তার দল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে। ‘পদাধিকার বলে’ তিনিই হবেন জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি এবং প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। আর দলের কো চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। ‘বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশে তাদের সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার পৃথক কার্যালয়ও রয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে ‘সরকারি দলের বিরোধীতাকারী’ সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ‘স্বীকৃতি’ প্রদান করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মহাজোট ২৮৮ আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির রয়েছে ২২টি আসন। একাদশ জাতীয় সংসদে মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বিরোধী দল ঘোষণা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গত ৫ জানুয়ারি সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।