আকাশবার্তা ডেস্ক :
পোশাক শ্রমিকদের টানা সাত দিন আন্দোলন শেষে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) কাজে যোগ দিয়েছেন সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তবে আশুলিয়ায় বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশের পর আবারো বেরিয়ে আসে। এর ফলে বিক্ষিপ্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বেলা ৯টার দিকে আশুলিয়ায় টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক, জামগড়া, বেরন, ও নরসিংহপুর এলাকার হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, এনবয় ও উইনডিসহ প্রায় ১০টি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের পর কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশের মাইকিং-এ শ্রমিকরা কাজে ফিরে যায়।
যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বারবার মাইক করতে দেখা গেছে। এসময় পুলিশকে বলতে শোনা যায়, সম্মানিত গ্রার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান শ্রমিক বান্ধব সরকার ইত্যমধ্যে আপনাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেছেন। আপনাদের দাবি বিবেচনা করে বিভন্ন গ্রেটে বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেছে।
সুতরাং, আপনারা আপনাদের নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দিন। যারা কাজ করবেন তারা বেতন পাবেন। আর যারা কাজ করেবন না তারা আশুলিয়া এলাকা ছেড়ে চলে যান। অযথা ঘোরাফেরা করেবেন না। আপনাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে আমারা তা দেখে আইনত অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করব। শান্তিপ্রিয় গ্রামেন্টস শ্রমিক ভাই ও ােবনেরা ঢাকা জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে সব সময় আছে।
উল্লেখ্য- শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিকদের অন্যতম আপত্তি ছিল ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের বেসিক নিয়ে। বেসিক বাড়লে বোনাস, ওভারটাইমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ে। শ্রমিকদের দাবি, নতুন মজুরি কাঠামোয় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যে হারে বেড়েছে; বেসিক সে হারে বাড়েনি। মজুরি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনায় ছয় গ্রেডের বেসিকই বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় যা ছিল ১০ হাজার ৪৪০ টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের ৮ হাজার ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৪৪ টাকা করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডে ৫ হাজার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৩০ টাকা করা হয়েছে। চতুর্থ গ্রেডে বেসিক ৪ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৩০ টাকা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ হাজার ৬৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০৫ টাকা ও ষষ্ঠ গ্রেডে ৪ হাজার ৩৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৮০ টাকা হয়েছে। সপ্তম গ্রেডের বেসিক মজুরি বোর্ড নির্ধারিত ৪ হাজার ১০০ টাকা রয়েছে।