আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকার আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা। শীতের শুরুতে বৃষ্টি কমে গেলে ভাটাগুলোতে উৎপাদন শুরু হয়। ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ এসব ইটভাটা। ভাটাগুলোর বাতাস সরাসরি ঢাকায় ঢুকে বাতাস দূষিত করছে।ইট প্রতি কেবল আড়াই টাকা বেশি খরচ করলেই ঢাকার বায়ুদূষণ অর্ধেক কমানো সম্ভব! সনাতন ইটভাটাগুলোকে আধুনিক ইটভাটায় রূপান্তর করলে গ্রাহকদের বাড়তি খরচ করতে হবে।
জানা যায়, সরকার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়েও ভাটা মালিকদের রাজি করতে পারছে না। তবে মালিকদের বাধ্য করতে আগামী সংসদে কঠোর আইন পাসের কথা জানালেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী।সনাতন ইটভাটায় মাটিকাটা ও মাড়ানো হয় হাতে। আবহাওয়ার ওপর তা নির্ভরশীল হওয়ায় তাড়াহুড়াও থাকে বেশি। অন্যদিকে, আধুনিক কারখানায় কাজটি হয় সম্পূর্ণ মেশিনে এবং নিজস্ব শেডে। তাই সারা বছর চলে উৎপাদন।সনাতন ইটভাটায় ইটের ছাঁচ কাটা হয় হাতে। তাই সাইজ হয় এলোমেলো। অন্যদিকে আধুনিক কারখানায় তা মেশিনে কাটায় প্রতিটি ইট থাকে। ফলে সিমেন্ট-বালুও কম লাগে।সনাতন ইটভাটার মূল সমস্যা চিমনি।
ইট পোড়ানোর পর ধোঁয়া চলে যায় আকাশে, যা পরে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আধুনিক ইটভাটায় কোনও চিমনি নেই। ধোঁয়াও হয় না। এখানে ইট পোড়ানোর পর বেরিয়ে আসা জলীয় বাষ্প দিয়ে কাঁচা ইট শুকানো হয়। ধোঁয়া না হওয়ায় পরিবেশও পরিছন্ন থাকে।
এছাড়া কারখানায় ইট পোড়ানো হয় কয়লা দিয়ে শেডের ভেতরে। তাই কয়লায় অপচয় ও দূষণ কম হয়।সনাতন ভাটাগুলোতে শ্রমিকরা যেখানে অমানুষিক পরিশ্রম করেন, সেখানে আধুনিক কারখানাগুলো এ বিষয়ে অনেক এগিয়ে আছে। এতো সুবিধার পরও কেবল খরচের কথা ভেবে আধুনিক কারখানার প্রতি মালিকরা আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে সরকার এখানেও এগিয়ে এসেছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৭০ ভাগ পর্যন্ত ঋণসুবিধাও দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এস এম ফরমানুল ইসলাম বলেন, আমরা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আমরাই উঠিয়ে দিচ্ছি লোন হিসেবে।
৩০ শতাংশ তাদের জোগাড় করতে হচ্ছে। এই ৩০ শতাংশের মধ্যে হয়তো ৬ একর জায়গাও আছে। সুতরাং স্পন্সরদের খুব বেশি টাকা দিতে হচ্ছে তা না।তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই সেক্টরে সরকারের একটা ফোকাস আছে। এটাকে আমরা ট্রান্সফর্ম করতে চাই।এরপরও কেউ এগিয়ে না এলে তাকে বাধ্য করতে আগামী সংসদ অধিবেশনে আইন পাসের ইঙ্গিত দিয়ে বন ও পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকারক নয় এরকম পদ্ধতিতে যেন প্রস্তুত করা হয়।
ঢাকার আশপাশে যে বায়ুদূষণ হচ্ছে তা দূষণমুক্ত করার জন্য আইন পাস করে ঢাকা শহরের আশপাশে যে ইটভাটাগুলো আছে সেগুলোকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।ঢাকায় সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি ইট বিক্রি হয়, প্রতিটি আট থেকে সাড়ে আট টাকায়। আর আধুনিক কারখানার ইট, ১১ টাকা ২০ পয়সা থেকে সাড়ে ১১ টাকা।