মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

সড়কে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

আকাশবার্তা ডেস্ক :

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে, টিভির টক শোতে আলোচনা হচ্ছে, সামাজিক গণমাধ্যমে আওয়াজ তোলা হচ্ছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠন সভা-সেমিনার- মানববন্ধন করছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু- কিশোর শিক্ষার্থীরা প্রায় সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইন করা হয়েছে তাতেও কি কিছু হলো? হয়নি। সড়কে-মহাসড়কে নৈরাজ্য বহাল।

চালকরা বেপরোয়া, আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হয়নি, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ে না। ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের মধ্যেই যেন তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ। লেন মেনে চলার আবশ্যকতা কোনো চালক বোধ করে না। রাস্তা পারাপারে, বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকায় পথচারী সেতুর ব্যবহার খুব কম। এককথায় সড়কে- মহাসড়কে বিপর্যস্ত এক দশা। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি শাস্তি পাবে, এটা যেন অলীক বিষয়। সড়কে- মহাসড়কে যেসব যান মৃত্যুদূত হিসেবে হাজির হয়েছে সেসবের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও বাস। অনেক দিন আগেই ‘যন্ত্রদানব’ অভিধা পেয়েছে ট্রাক। এখন তার দানবসত্তায় ভাগ বসাচ্ছে কাভার্ড ভ্যান ও বাস।

রাজধানীতে যেন বাস-ট্রাকের ‘স্বরাজ’ কায়েম হয়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে আবার প্রাণ নিয়ে ঘরে ফেরা যাবে, এমন সম্ভাবনা ক্রমহ্রাসমান। প্রতিদিনই কোথাও না কোথায় দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানি হচ্ছে। দিনে গড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়, তবে সরকারি হিসাবে সংখ্যাটি অনেক কম।

গত রোববার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন নিহত হয়েছে। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কেরানীগঞ্জে দুই শিশু ও শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে দুজন নিহত হয়। একই সময়ের মধ্যে ট্রাক, বাস ও কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিয়েছে আরো আটজনের প্রাণ।

রাজবাড়ী, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ ও নাটোরে ওই সব দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশে পাঁচ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ২২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটিয়েছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, প্রায় ২৮.৬৮ শতাংশ। এরপর বাস ১৮.৯২ শতাংশ। ৪১.৫৩ শতাংশ নিহত হয়েছে গাড়িচাপায়, আর ২৯.৭২ শতাংশ নিহত হয়েছে গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ২৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে; নিহত হয়েছে ২৪৯ জন। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি (৭০টি) দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে অটোরিকশা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ তিনটি অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং বা অতিক্রমণ এবং যান্ত্রিক ও রাস্তার ত্রুটি। আরো কারণ আছে। চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া আচরণ, তদারকির অভাব সেসবের অন্যতম। দুর্ঘটনা রোধে সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নেয় সেসবের বেশির ভাগ কার্যকর করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় ও পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। আমরা আশা করব, সব বিষয় আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত তৎপর হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০