পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক শনিবার (১১ মার্চ) সকালে মিজারুল কায়েসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কবে নাগাদ লাশ দেশে আনা হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের জানানো হবে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মিজারুল কায়েস ব্রাজিলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হন। পরে তিনি ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়।
স্থূল দেহের অধিকারী মিজারুল এর আগে ২০১২ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তখন তিনি সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন।
মিজারুল কায়েস বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ পান। ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে, তিনি রাশিয়া ও মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে বেলারুশ, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিজারুল কায়েস। টোকিও, জেনেভা ও সিংঙ্গাপুরের বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক, সাউথ ইস্ট এশিয়া, ইকোনোমিক অ্যাফেয়ার্স, এক্সটার্নাল পাবলিসিটি ও ইউএনসিএলওএস ডেস্কের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর মিজারুল কায়েসকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর ২০১৪ সালের জুলাই মাসে তিনি ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ পান।কিশোরগঞ্জের সন্তান মিজারুল স্ত্রী নাইমা চৌধুরী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
মিজারুল কায়েসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মিজারুল কায়েসের মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সচিব মেছবাহ উল আলম শোক প্রকাশ করেছেন।