আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বইমেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪ টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনি এ মেলার উদ্বোধন করেন। এবার গ্রন্থমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’।
সরকার প্রধানের দায়িত্বে থেকে নিরাপত্তার বেড়াজালে নিয়মিত বইমেলায় আসতে না পারার কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
তিনি বলেন, “আগে যখন ক্ষমতায় ছিলাম না, তখন এই মেলায় অনবরত ঘুরে বেড়াতাম। আর এখন অনেকটা বন্দি জীবন, এখন ইচ্ছা থাকলেও আসা যায় না। আর আসলেও অন্যের অসুবিধা হয়।… সত্যি কথাটা কি, মনটা পড়ে থাকে বইমেলায়।”
এর আগে বিকাল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার পর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এসময় তিনি নিজেও জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।
এর পর ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ শেষ পরিবেশিত হয় অমর একুশের সূচনা সঙ্গীত- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। জাতীয় সঙ্গীত এবং সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করে সঙ্গীত সংগঠন সুরের ধারা। এর পরিচালনায় ছিলেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।
অতিথিদের বক্তব্যের পর ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার-১০১৮’ প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ এর করা প্রতিবেদন নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এর ২য় খণ্ড এবং মিশরের লেখক গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশির লেখা শেখ হাসিনার জীবনী ‘ শেখ হাসিনা- যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ এর বাংলা অনুবাদ ও মূল গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিশরের লেখক গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
মেলা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি বইমেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরের আঙিনা তাই কর্মময়। প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে বাঙালির প্রাণের সাথে মিশে থাকা অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষেই এ আয়োজন। বাঙালির হৃদয়ে-মননে মিশে আছে এই মেলা। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বাঙালির এই মেলাই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা বইমেলা। আর মাসজুড়ে আয়োজিত এই অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বার উন্মোচন হলো আজ শুক্রবার। যথারীতি মেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এবছরও মেলার মাসেই যুক্ত হবে বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস।
এছাড়া প্রতিবাদ-প্রতিরোধের রঙে আঁকা স্বৈরাচারবিরোধী দিবস এবং অমর ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও এ মাসেই। তাই দেশপ্রেম আর ভাষার প্রতি ভালোবাসায় মাসজুড়েই সিক্ত হবে বাঙালির হৃদয়, মন।