বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজধানী ঢাকার চকবাজার ট্রাজেডিতে সহোদরসহ নোয়াখালীর অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের বাড়ি জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায়। স্বজনদের মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
চকবাজার থেকে সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্ধা ব্যবসায়ী মিলন জানান, ঘটনার সময় নিহতরা সবাই ভবন গুলোতেই ছিলো। আগুন লাগার পর তারা আর বের হতে পারেননি। নিহত ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম পরিচয় জানা গেছে।
তারা হলেন-সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মৃত মমিন উল্যাহর পুত্র শাহাদাত হোসেন হিরা (৩০), গাউছ মিয়ার পুত্র নাছির উদ্দিন (২৮), আবদুর রহিমের পুত্র আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (৩৫), ঘোষকামতা গ্রামের সহোদর ভাই সাহাব উদ্দিনের পুত্র মাসুদ রানা (৩৫) ও রাজু (২৮) এবং বারগাঁও ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৩০)। বাকিদের মৃতদেহগুলো আগুনে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় পরিচয় সনাক্ত করা যাচ্ছেনা। এদিকে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
চকবাজারের চুরিহাট্টা মসজিদের পাশের ওয়াহেদ ম্যানশন নামের পাঁচতলা ভবনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় ক্যামিকেল ও প্লাস্টিকের গোডাউনের সরঞ্জাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনেও।
বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে লাগা ওই আগুন দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন সকাল নয়টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এসময় প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভবনে আগুন লাগে।
আর ভবনটিতে কেমিকেলের গোডাউন থাকায় আগুন লাগার পর থেমে থেমে শব্দ করে ছোট ছোট বিস্ফোরণ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, ওয়াহেদ ম্যানশন নামের ওই বাড়ির মালিকের নাম হাজী আব্দুল ওয়াহেদ। ভবনের নিচতলা ও দোতলায় পাউডার ও কেমিকেলের গোডাউন আর প্লাস্টিকের সরঞ্জামের গুদাম রয়েছে। এরপর পাঁচতলা পর্যন্ত ফ্ল্যাট।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। এদিকে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।