আকাশবার্তা ডেস্ক :
শুধুমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী ভালো ছাত্র হয়ে যাবে আমরা এটা মনে করিনা। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন করা। যাতে শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় পাশ করার পর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে সেখানে পড়ালেখায় পূর্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারে। বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল অর্জন সম্পর্কে এক স্বাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মোস্তাফা কাজল।
কাজী মোস্তাফা কাজল ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এরআগে তিনি পশ্চিম লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে সফল এই মানুষ প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জিপিএ-৫ সহ শতভাগ পাশ ফলাফল অর্জনে যুগান্তকারী কয়েকটি পদক্ষেপ নেন।
তিনি জানান, বছরের শুরু থেকেই প্রত্যেকটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যথাযথভাবে প্রয়োগ, প্রতিদিনের পড়া ও বাড়ির কাজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা, পঞ্চম শ্রেণিতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস করানো, প্রতিমাসে অভিভাবকদের নিয়ে মা’ সমাবেশ করা, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে যথোপযুক্ত ধারণা দেওয়া এবং সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব বন্টনসহ ইত্যাদি বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। যার ফলে আমি যোগদানের বছরই ২০১৭ সালের সমাপনী পরীক্ষায় ১০৬ জন পরীক্ষার্থী সবাই পাশ করে। এর মধ্যে ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অথচ এরআগের বছরও একজন পরীক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এরপর ২০১৮ সালের সমাপনী পরীক্ষায় ৮২ জন পরীক্ষার্থী সবাই পাশ করে এবং ২৯ জন শিক্ষার্থী কৃত্রিত্বের সাথে জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়। এই সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী এবং সহকর্মীরা সবাই আন্তরিকভাবে আমাকে সহযোগিতা করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধান শিক্ষক কাজী মোস্তাফা কাজল বলেন- পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলা, জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন, অভিভাবক এবং মায়েদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময়, দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারী আমরা গুরুত্বসহকারে দেখাশোনা করি। এতে একদিকে শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ হয় এবং পরীক্ষার উপযোগী হিসাবে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, সমাপনী ছাড়াও বার্ষিক পরীক্ষাগুলোতেও শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেকটি শ্রেণিতে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এতসব ভালো খবরের মাঝেও কিছু হতাশা এবং সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কাজী মোস্তাফা কাজল। তিনি জানান, সাড়ে ৪শ’ শিক্ষার্থীর আসন সংখ্যায় এখানে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬শ’ জন। এতে শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় গাদাগাদি করে শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে। নতুন একাডেমিক ভবনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে কাজী মোস্তাফা কাজল বলেন, পিইডিপি-৪ এর আওতায় ৪তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকবেনা। এছাড়াও আসবাবপত্রের অভাব, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মানসম্মত শৌচাগারের অভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাফল্যের ধারা বর্ণনা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক শাহআলম, নূর হোসেন, কৃষ্ণ চন্দ্র দেবনাথ, পেয়ারা বেগমসহ অনেকেই জানান- গত দুইবছর থেকে ভালো ফলাফল অর্জন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের বাড়তি তদারকির কারণে শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে। তারা বলেন, আমরা অভিভাবকরা খুব খুশি। কারণ, নতুন প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভালো ফলাফলসহ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসার প্রতি মনযোগি হয়েছে।
বিদ্যালয়টির এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে যেসব সমস্যার কথা ওঠে এসেছে, এসব সমস্যা সমাধানে শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি এবং আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।